ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে কেরালার বিধানসভা । পাশাপাশি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য গঠিত কমিটির কাঠামো পরিবর্তনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন সোমবার বিধানসভায় প্রস্তাবটি পেশ করেন। সংশোধনীসহ প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এর বিরোধিতা করেন বিজেপির তিন বিধায়ক।
প্রস্তাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, স্পষ্ট মাপকাঠি বা আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রস্তাবে আরো আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, প্রযুক্তিগত কারসাজি ও সংশোধন প্রক্রিয়ার অনিয়মের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, পরিযায়ী শ্রমিক এবং তরুণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এছাড়া, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচনি নিবন্ধন আধিকারিকদের (ইআরও) ক্ষমতা খর্ব করেছে।
কমিশনের অধিকাংশ সদস্য এই পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে একমত ছিলেন না বলেও উল্লেখ করা হয় প্রস্তাবে।
প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনকে অনিয়ম সংশোধন করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সব যোগ্য নাগরিকের নাম পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করা উচিত এবং সরকারের প্রভাবমুক্ত থাকা প্রয়োজন। ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ওই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলের নেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বর্তমান নিয়োগব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগ কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া এবং কমিটির কাঠামো পরিবর্তনের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আরএ