ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ না পেলে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবানন—এই তিন ফ্রন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। বৃহস্পতিবার আর্মি রেডিওর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সেনাবাহিনীর আশঙ্কা, অর্থের ঘাটতির কারণে সেনা নিয়োগ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভারী সাঁজোয়া যান মেরামতের মতো কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। লেবাননে শীতকালীন সামরিক প্রস্তুতিও পর্যাপ্ত নয় বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিরোধ চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে অর্থ চেয়েছে তা রাষ্ট্রীয় বাজেটে কোনো প্রভাব না ফেলেই সরবরাহ করা সম্ভব। তিনি প্রস্তাব করেন যে, ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকেই এই অর্থ সংস্থান করা যেতে পারে।
ইসরাইলের ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট আগে প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল থাকলেও ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযানের পর তা বাড়িয়ে প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন শেকেল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বাড়তি অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছায়নি।
সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও সম্প্রতি বলেছেন, বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বর্তমানে বাজেট নিয়েও সংকটে রয়েছে।
গাজায় গণহত্যা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে হামলার পাশাপাশি, গত বছর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে দুটি যুদ্ধ চালিয়েছে। এছাড়া তারা ইয়েমেন ও কাতারেও আঘাত হেনেছে এবং সিরিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই স্থল অভিযান ও কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন এবং লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে ইসরাইল । তারা এসব এলাকা থেকে সরে আসতে কিংবা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
সূত্র: আনাদোলু
আরএ