হোম > বিশ্ব

ফেরত পাঠানো হচ্ছে শ্রমিকদের

ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ক্ষুব্ধ আমিরাত

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা তৈরি করেছে নতুন সমস্যা। দীর্ঘদিনের অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন।

পাকিস্তানি শ্রমিকদের ব্যাপক হারে বহিষ্কার শুরু করেছে পারস্য উপসাগরীয় দেশটি। ফলে পাকিস্তানের জন্য কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে ইরান। তবে আমিরাতের ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে পাকিস্তান জোরালোভাবে নিন্দা না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে আবুধাবি।

আমিরাতের বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করা ২০ জনেরও বেশি পাকিস্তানির সাক্ষাৎকার নিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস । তারা সবাই জানিয়েছেন, গত মাসে তাদের হঠাৎ করে গ্রেপ্তার, আটক এবং নির্বাসিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের ধারণা, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে হাজার হাজার শিয়া পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাকিস্তানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ইরানের সঙ্গে এদের গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।

তবে এই বহিষ্কারের কারণ অস্পষ্ট। উভয় দেশই তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী বলে দাবি করে।

গণহারে পাকিস্তানি নাগরিকদের বহিষ্কারের কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিয়াদের বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে করা প্রশ্নের কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, শুধু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদেরই বহিষ্কার করা হয়েছে। আমিরাত সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানকে দেওয়া ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ প্রত্যাহার করে নেয়, যা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব এগিয়ে এসে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি আমানত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

আবুধাবির আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমির জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক হুসাইন হাক্কানি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান তাদের সমর্থন না করায় সংযুক্ত আরব আমিরাত হতবাক হয়েছিল। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত অবাক হওয়ায় পাকিস্তানও হতবাক হয়েছিল।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ লাখেরও বেশি পাকিস্তানি বাস করেন, যারা গত বছর ৮০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধে পাকিস্তান আর কোনো পথ বেছে নিতে পারত কি না, আমার জানা নেই।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিকেরা উভয় সংকটে পড়েছেন বলে মনে হচ্ছে। তারা বলছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সাবেক আইনপ্রণেতা নাদিম আফজাল চান বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশে তার জেলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্তত ১০০ জন শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছেন, যাদের অধিকাংশই শিয়া।

শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধানত শিয়া অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৯০০ জন ফিরে এসেছেন।

ইসলামাবাদভিত্তিক একটি শিয়া রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ আমিন শাহেদি বলেন, ফেরত পাঠানো পাঁচ হাজার পরিবারকে নিবন্ধন করেছে তার সংগঠন।

তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে প্রত্যেক শিয়াই ইরানকে সমর্থন করে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক এতটাই খারাপ যে, পাকিস্তান সরকারকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা বৃথা।’

শাহেদি ও অন্যরা বলেন, ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান সাহায্য করার পর এই বহিষ্কার শুরু হয়।

১৩ এপ্রিল, আমিরাতের একটি বড় লজিস্টিক কোম্পানির নিরাপত্তা প্রশাসক ২৫ বছর বয়সী আলি হামজা বলেন, তাকে তার অফিস থেকে একজন সাদা পোশাকের কর্মকর্তা তুলে নিয়ে আল আওয়ির আটক কেন্দ্রে নিয়ে যান। তিনি জানান, ২১ এপ্রিল তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। তারা সবাই বলেছেন যে, আমিরাতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) থেকে তাদের হয় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অথবা ফোন করা হয়েছিল। কোনো কারণ না দেখিয়েই তাদের বেশ কয়েকদিন আটক রাখা হয়। আমিরাতে পাকিস্তানি কনস্যুলার কর্মকর্তারা ‘আউটপাস’ নামে পরিচিত একটি জরুরি ভ্রমণ নথি ইস্যু করার পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের শের কোট গ্রামের ৪৭ বছর বয়সী ট্যাক্সি চালক হায়দার আলি বানগাশ বলেন, ‘তারা আমাদের কোনো কারণ জানায়নি। কিন্তু আমরা বুঝেছিলাম। আমাদের একমাত্র অপরাধ হলো শিয়া হওয়া।’

বহিষ্কার হওয়া বেশ কয়েকজনের কিছু নথি পর্যালোচনা করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। তারা জানায়, তাদের বহিষ্কারের কারণ হিসেবে লেখা ছিল ‘কারারুদ্ধ/পলাতক’।

দুবাইয়ের ট্যাক্সি চালাতেক শাহ। ১৯ এপ্রিল আরো অন্তত ৫০ জনের সঙ্গে তাকেও বহিষ্কার করা হয়।

আবুধাবির একটি ঠিকাদারি সংস্থার মালিক বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ গত মাসে তাকে তার কর্মচারী একজন শিয়া পাকিস্তানি টেকনিশিয়ানকে আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ টেকনিশিয়ানের ভিসা বাতিল করে এবং তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

দ্য টাইমস আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১২ জন ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলেছে, যাদের মধ্যে বেসরকারি স্কুল এবং রেস্তোরাঁর পরিচালকও রয়েছেন। তারা বলেছেন যে অভিবাসন কর্মকর্তারা পাকিস্তানি কর্মচারীদের হয় নির্বাসিত করেছেন অথবা তাদের ভিসা দেওয়া বা নবায়ন করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এই যুদ্ধ কিছু উপসাগরীয় দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উস্কে দিয়েছে। কিছু শিয়া নাগরিককে ইরান ও তার মিত্রদের কাছে তথ্য পাচারের জন্য অভিযুক্ত করেছে তারা।

তবে আমিরাতে বসবাসকারী অন্যান্য শিয়া জনগোষ্ঠী যেমন ইরাকি ও লেবানিজরা নির্বাসনের সম্মুখীন হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না। এ থেকে বোঝা যায় যে পাকিস্তানের সঙ্গে আমিরাতি সরকারের টানাপোড়েনের পেছনে সাম্প্রদায়িকতার চেয়েও বেশি দায়ী যুদ্ধ নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিভেদের মাঝে আটকা পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে পাকিস্তানের। আঞ্চলিক যুদ্ধে পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই বিভেদ আরো গভীর হয়েছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরব গত বছর একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে বলা হয়েছে যে, এক পক্ষের ওপর যেকোনো হামলাকে অপর পক্ষের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘সৌদিদের সঙ্গে পাকিস্তানের অব্যাহত উষ্ণ সম্পর্কে আমিরাত খুশি নয়। ইরানের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য পাকিস্তান যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতেও তারা অসন্তুষ্ট।’

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

আরএ

ইরানের জবাবের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র, কী বলছে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কিনতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিল পাস তাইওয়ানের

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত জাহাজে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নিতে উদ্যোগ

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি রাশিয়ার

ভুয়া সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ, বিজয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর

চীনের অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু

অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান মার্কিন সিনেটরের

ট্রাম্পের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ ব্যর্থ হয়েছে: ইরানি কর্মকর্তা

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর তাণ্ডব অব্যাহত