মেক্সিকো সীমান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগের প্রমাণ চেয়েছে দেশটির সরকার।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম বলেছেন, তাদের ন্যাশনাল গার্ড, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী মেক্সিকোর ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে গুলি চালানোর কোনো ঘটনা শনাক্ত করেনি।
সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে শেনবাউম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মেক্সিকো সীমান্ত থেকে গুলি চালানোর কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সব প্রমাণ চেয়েছে মেক্সিকো।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।’
এর এক দিন আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনাল্ড জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে টেক্সাসের বিপরীতে মেক্সিকোর তামাউলিপাস সীমান্ত এলাকায় মার্কিন কোস্টগার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এ হুমকির ‘দ্রুত জবাব’ দেওয়া হবে।
জনসন আরো বলেন, গুলির ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন মেক্সিকোর বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে মার্কিন দূতাবাস। দুই দেশের বাহিনী সীমান্তের উভয় পাশে যৌথভাবে টহল দেবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের পর সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৫০০ মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধের সরঞ্জামও রয়েছে। মেক্সিকোও সীমান্তে সেনা ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য মোতায়েন করেছে।
দুই দেশের এই যৌথ সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন মিরর’। শেনবাউম বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য মেক্সিকোর বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। শেনবাউম বলেছেন, মেক্সিকোর কোনো নিরাপত্তা বাহিনীই দেশটির ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে গুলি চালানোর ঘটনা দেখেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে টানাপোড়েন বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাদক চোরাচালান ও অপরাধী চক্র দমনে মেক্সিকোর ভেতরেও সামরিক অভিযান চালানোর কথা বলেছে। তবে শেনবাউম এ ধরনের পদক্ষেপকে মেক্সিকোর সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে সতর্ক করেছেন।
মেক্সিকোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জনসনের সঙ্গেও শেনবাউমের সম্পর্ক নিয়ে আগে একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। জুনে জনসন মেক্সিকো সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। জবাবে শেনবাউম বলেছিলেন, রাষ্ট্রদূতদের সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে সম্মান দেখাতে হবে।
মেক্সিকোর সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ডে বিদেশি বাহিনীর কার্যক্রমের অনুমোদন দিতে হয় কেন্দ্রীয় সরকারকে। এ বিষয়টি নিয়ে চলতি বছর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কার্যক্রম ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছিল। এপ্রিল মাসে উত্তরাঞ্চলীয় চিহুয়াহুয়া অঙ্গরাজ্যে গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই সিআইএ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর তারা সেখানে কী করছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শেনবাউম তখন জানান, তার সরকার বা মন্ত্রিসভাকে সিআইএর ওই কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।
এএম