হোম > বিশ্ব

ইরান যুদ্ধের জেরে ঝুঁকিতে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ

নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান আগ্রাসনে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে অন্যতম বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ। হরমুজ প্রণালিতে বিপুল পরিমাণ সারের সরবরাহ আটকে রয়েছে। ভারত, আলজেরিয়া ও স্লোভাকিয়ায় সারের কারখানাগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে, না হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বিপুলভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। ইতোমধ্যে চীন সার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার গমচাষিরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা ও সয়াবিনচাষিরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভর্তুকির আবেদন করছেন।

যুদ্ধের ফলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই প্রধানত বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকটের উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু সার সরবরাহের ওপর সংঘাতের ধারাবাহিক প্রভাব পরিস্থিতিকে দিনে দিনে আরো অবনতির দিকে নিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সারের দাম বাড়ছে এবং কোথাও কোথাও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করেই বেশির ভাগ সার তৈরি হয়। ফলে জ্বালানিসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বজুড়ে এ পণ্যের বড় ধরনের সরবরাহকারী অঞ্চল। রাশিয়ার পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ সার এ অঞ্চলে উৎপাদন হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ হয়। মিশর এবং থাইল্যান্ডসহ নিজস্ব সার উৎপাদনকারী দেশগুলো এর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের গ্যাস ব্যবহার করে।

বিশ্বজুড়ে বাজার তদারককারী সংস্থা ইনডিপেনডেন্ট কমোডিটি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের সার বিশেষজ্ঞ দিপিকা থাপলিয়াল জানান, সাধারণ সরবরাহের বিপুল অংশের অনুপস্থিতিতে সারের দাম বিপুলভাবে বেড়ে গেছে। এটি সারা বিশ্বেই প্রভাব ফেলছে। ভারতসহ কৃষিপ্রধান দেশগুলো এর ফলে সম্ভাব্য ঘাটতির মুখে পড়বে। এর পরিণতি আরো সুদূরপ্রসারী হবে। আমেরিকা, ব্রাজিলসহ সার আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশের কৃষকেরা এর ফলে ভুক্তভোগী হবেন।

দিপিকা থাপলিয়াল বলেন, সার কিনতে গিয়ে যদি কৃষকদের অধিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়, তাহলে তা ভোক্তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করবেন তারা। অন্যদিকে চাপ থাকলে অন্যতম প্রধান সার উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়াও তার উৎপাদন বাড়াতে পারবে না। ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধে দেশটির কারখানা ও বন্দরগুলো কিয়েভের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই সুনিশ্চিতভাবেই সারা বিশ্বে খাবারের দাম বাড়ছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে খাদ্য সরবরাহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সতর্কতা জানানো হয়। এতে জানানো হয়, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো খাদ্যস্বল্পতার মুখোমুখি হতে পারে। দেশগুলো চাল, ভুট্টা, সয়াবিন ও সবজির জন্য প্রধানত আমদানির ওপরই নির্ভরশীল।

বৃহস্পতিবার ক্যামেরুনে সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক এনগজি ওকোনজো-ইওয়ালা বলেন, বিশ্বের সরকারগুলো যখন ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্য অস্থিরতার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের বিপর্যয় মোকাবিলা করছে, তখন সংঘর্ষ ‘জ্বালানি, সার ও খাবারের বাণিজ্যকে অস্থিতিশীল’ করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘এটি আর গোপন কিছু নয় যে, বিশ্বের বাণিজ্য ব্যবস্থা গত ৮০ বছরের মধ্যে চরম অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদিও ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তবে এটি এখনো অনিশ্চিত। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, ‘আন্তরিকতার নিদর্শন’ হিসেবে ইরান এর মধ্যে আটটি তেলের ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া আরো দুটি নৌযানকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

কিন্তু এর আগে সামুদ্রিক যোগাযোগ বিষয়ে তথ্য প্রদানকারী সংস্থা লয়েড লিস্ট ইন্টিলিজেন্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অল্প কিছু নৌযানই এই পথ দিয়ে গেছে। তেল-গ্যাস সরবরাহকারী বেশির ভাগ নৌযানই বিশেষ ‘ছায়া বহরের’ অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর তেল-গ্যাস পরিবহন করে। এ নৌযানগুলো ইরান নিয়ন্ত্রিত স্থান দিয়ে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে।

কেনিয়ায় বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ১০৮

ইরানে একদিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড, তেহরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরাক থেকে ড্রোন হামলা

গাজায় চেক পয়েন্টে ইসরাইলি হামলায় নিহত ৬

যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলা চালালে আমিরাতকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে

জ্বালানি সংকটে ভারতের সিরামিক শিল্পে ধস

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন শর্ত, শত শত কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত তিন সাংবাদিক

কুয়েত বিমানবন্দরে ফের ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে আগুন

আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী ভাষ্য