অনলাইনে বিষ বিক্রি করে বিশ্বজুড়ে মানুষের আত্মহত্যায় সহায়তা করার ১৪টি অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন কানাডার এক নাগরিক। ৬০ বছর বয়সী কেনেথ ল’ নামের ওই ব্যক্তি শুক্রবার ওন্টারিওর একটি আদালতে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে এই স্বীকারোক্তি দেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে থাকা আরো গুরুতর হত্যার অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাবেক এই শেফ অনলাইন সুইসাইড ফোরামের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া ৪০টি দেশের মানুষের কাছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি বিষের প্যাকেজ বিক্রি করেছেন, যার এক-চতুর্থাংশই পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাজ্যে।
তার বিরুদ্ধে আনা এই ১৪টি অভিযোগের সবকটিই কানাডিয়ান ভুক্তভোগীদের সম্পর্কিত। তবে ব্রিটিশ ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, কেনেথ ল’-এর সরবরাহ করা পণ্যের কারণে যুক্তরাজ্যে ৭৯ জন মারা গেলেও ব্রিটিশ প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেননি।
যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, তারা কানাডার এই দোষ স্বীকারের চুক্তি-এর সঙ্গে একমত হয়েছে, যাতে কেনেথ ল’-এর সাজা দেওয়ার সময় ব্রিটিশ নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সিপিএস-এর একটি চিঠি থেকে জানা গেছে, কেনেথ ল’-কে যুক্তরাজ্যে বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, কারণ কানাডায় একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
কানাডার ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, আত্মহত্যায় সহায়তার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দিনব্যাপী কেনেথ ল’-এর সাজা ঘোষণার শুনানি শুরু হবে, যেখানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বক্তব্য আদালতে পড়ে শোনানো হবে।
যুক্তরাজ্য, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় এক ডজন দেশের অন্তত ১১টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জটিল তদন্তের পর ২০২৩ সালের মে মাসে কেনেথ ল’-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের এক সপ্তাহ পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যেখানে একজন সাংবাদিক ক্রেতা সেজে কেনেথ ল’-এর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ওই সময় ল’ ওই সাংবাদিককে কীভাবে তার পণ্য ব্যবহার করে ‘মৃত্যু নিশ্চিত’ করা যায়, সেই পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কানাডিয়ান গোয়েন্দারা ২০২৩ সালে জানিয়েছিলেন, কেনেথ ল’ মানুষের জীবনাবসানে সহায়তা করার সরঞ্জাম ও উপাদান বিক্রির জন্য একাধিক ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন।
সূত্র: বিবিসি
এএম