হোম > বিশ্ব

আগ্রাসন মোকাবিলায় যেসব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন খামেনি

তাহমিনা তাসির

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা ঘিরে তেহরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। তবে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতির আগেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছেন।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সরাসরি হামলা হলে রাষ্ট্র পরিচালনা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে জাতীয় নিরাপত্তার শীর্ষ নেতা আলি লারিজানিকে। ৬৭ বছর বয়সি লারিজানি ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক কমান্ডার এবং দীর্ঘদিন পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন।

ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং গার্ড সদস্যদের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনি জনাব লারিজানি এবং মুষ্টিমেয় অন্যান্য ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগীদের আমেরিকান ও ইসরাইলি বোমা হামলা থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা প্রচেষ্টা থেকে রক্ষার নির্দশ দেন।

সরকারের ঘনিষ্ঠ একজন রক্ষণশীল বিশ্লেষক নাসের ইমানি তেহরান থেকে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে জনাব লারিজানির দীর্ঘ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তীব্র সামরিক ও নিরাপত্তা সংকটের সময়ে সর্বোচ্চ নেতা তাকে ভরসা করছেন।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা বিশ্বাস করেন, লারিজানি তার রাজনৈতিক রেকর্ড, তীক্ষ্ণ মন এবং জ্ঞানের কারণে এই সংবেদনশীল মোড়ের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন এবং বাস্তবসম্মত পরামর্শের জন্য তিনি তার ওপর নির্ভর করেন। যুদ্ধের সময় লারিজানির ভূমিকা অত্যন্ত স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রেক্ষাপটে খামেনি তার বিশ্বস্ত সহযোগী লারিজানির ওপর আস্থা রাখেন। এরপর থেকেই নিরাপত্তা, কূটনীতি ও কৌশলগত বিষয়ে লারিজানির প্রভাব বাড়তে থাকে। ইসলামি শাসনব্যবস্থার অবসানের দাবিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এ অবস্থায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পেশায় হৃদরোগ সার্জন থেকে রাজনীতিতে আসা পেজেশকিয়ান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক সংকট, বিক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক চাপসহ নানা চ্যালেঞ্জে পড়েন। ইরানের সংবাদমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, নীতিনির্ধারণী বহু বিষয়ে তাকে লারিজানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এমনকি ইন্টারনেট বিধিনিষেধ শিথিলের মতো বিষয়েও লারিজানির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়েছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় রয়েছেন লারিজানি। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পরামর্শ করতে মস্কো সফর করেছেন। পাশাপাশি কাতার ও ওমানের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা তদারকিতেও ভূমিকা রাখছেন। চলতি মাসে দোহা সফরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। গত কয়েক মাসে আমরা দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নিয়েছি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, খামেনি সামরিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করে রেখেছেন। সম্ভাব্য গুপ্তহত্যা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বিশেষ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় আত্মগোপনে থাকা খামেনি সম্ভাব্য তিন উত্তরসূরির নাম ঠিক করেছিলেন, যদিও তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা না হওয়ায় লারিজানি সর্বোচ্চ নেতার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নন।

খামেনির ঘনিষ্ঠ বলয়ে আরো রয়েছেন তার সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রাহিম সাফাভি, বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি। যুদ্ধকালীন সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে কালিবাফকে ‘ডেপুটি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও লারিজানির প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। জানুয়ারির বিক্ষোভ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজেকে অনভিজ্ঞ বলে উল্লেখ করে লারিজানির সঙ্গে পরামর্শের কথা বলেন।

সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানে ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রপ্রধান হলেও, সংকট মোকাবিলায় কার্যত লারিজানিই এখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগমুহূর্তে কী করছিলেন খামেনি

দুবাই-দোহা-তেলআবিবে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে চড়া মূল্য দিতে হবে: ইরানের স্পিকার

ইরানে নজিরবিহীন হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

খামেনির মৃত্যুসংবাদ পড়তে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন টিভি উপস্থাপক

ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের হামলা

ইরানের দুই সিনিয়র কমান্ডারের মৃত্যু নিশ্চিত করল সরকারি বার্তা সংস্থা

মধ্যপ্রাচ্যে ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ঘোষণা

তেহরানে ‘আমেরিকা-ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: শনিবার সারা দিন যা যা হলো