বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো ধর্মঘটে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)-এর সাংবাদিকরা।
বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ফলে দেশটির লাইভ টেলিভিশন এবং রেডিও সম্প্রচার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।
এতে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১১টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হবে। এর আগে এবিসির প্রায় ৬০ শতাংশ সাংবাদিক কর্তৃপক্ষের দেয়া বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কর্তৃপক্ষ আগামী তিন বছরে মোট ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে জানুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩.৮ শতাংশ, যা কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত হারের চেয়ে বেশি।
এবিসির সংবাদকর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের ইউনিয়নগুলোর মতে, এই প্রস্তাব অত্যন্ত নগণ্য। বেতনের পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই প্রস্তাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকসহ এবিসির মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ গত রোববার এই প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। সাংবাদিকদের ইউনিয়ন মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্স এর প্রতিনিধি মাইকেল স্লেজাক বলেন, আমরা এমন কোনো চুক্তি মেনে নিতে পারি না যা কাজের শর্তাবলি কমিয়ে দেয়, মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বেতন কমিয়ে দেয় এবং সাংবাদিকদের পরিবর্তে এআই বট প্রতিস্থাপনের বিষয়টি নিষিদ্ধ করতে অস্বীকার করে।
অন্যদিকে, অসাংবাদিক কর্মীদের ইউনিয়ন কমিউনিটি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইউনিয়ন এর জোসেলিন গ্যামি জানান, কর্তৃপক্ষ একটি ন্যায্য প্রস্তাব না দেয়া পর্যন্ত সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটা ‘অনিবার্য’। তিনি বলেন, ইউনিয়ন সদস্যরা কখনোই চান না যে এবিসি’র দর্শকরা কোনো অসুবিধায় পড়ুক, কিন্তু আমাদের মৌলিক দাবিগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
এবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মার্কস অবশ্য দাবি করেছেন যে, এই প্রস্তাবটি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ এবং আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল একটি প্রস্তাব। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করে আমরা এই ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাবটি দিয়েছি যা প্রতিষ্ঠানের জন্য টেকসই।
বিরোধ নিরসনে এবিসি এখন অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্র বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন এর সহযোগিতা চেয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে বেতন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে এবিসি’র কর্মীরা ধর্মঘট পালন করেছিলেন।