হোম > বিশ্ব

‘বিদায় গণহত্যাকারী জো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন জো বাইডেন। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার বিষয়ে তার নীতি নতুন করে স্মরণ করছেন।

নেটিজেনরা বলছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নীতি ইসরাইলকে ১৫ মাস গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে ইসরাইলি বাহিনী যা করেছে, মানবাধিকারের যে কোনো সংজ্ঞায় তা গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হবে।

রোববার প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের শেষ কর্মদিবসে গাজায় যুদ্ধবিরতি চালু হয়েছে। বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কারণে শেষ পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির জন্য বাইডেন ও ট্রাম্প দুইজনই কৃতিত্ব দাবি করছেন।

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্যেই বাইডেন প্রশাসন ইসরাইলকে ১৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। বাইডেনের এ ভূমিকায় তার বিপুল সমালোচনা হয়েছে। ইসরাইলের প্রতি তার অন্ধ সমর্থন এবং নিজেকে ‘জায়নবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কারণে ফিলিস্তিনপন্থি নেটিজেনরা তার নাম দিয়েছেন ‘গণহত্যাকারী জো’ (জেনোসাইড জো)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমাম ড. ওমর সুলাইমান এক পোস্টে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির আলোচনায় যা কিছু হচ্ছে তা প্রকাশ করছে, কীভাবে বাইডেন চাইলেই শুরুর দিন থেকে যথাযথ চাপপ্রয়োগ এবং বিনা শর্তে বোমা ও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিতে অস্বীকার করার মাধ্যমে গণহত্যা বন্ধ করতে পারতেন। আপনি গণহত্যার উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছেন বাইডেন।’

চার বছরের শাসন সম্পর্কে জো বাইডেন এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এতে তিনি ইসরাইলে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রথম আলোচনার কথা জানান।

ওই আলোচনায় বাইডেন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) এ সম্প্রদায়ের ওপর কার্পেট বোম্বিং করতে পারেন না।’ এর জেরে নেতানিয়াহু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে কার্পেট বোম্বিংয়ের (নির্দিষ্ট স্থানে নির্বিচার বোমা হামলা) দিকে ইঙ্গিত করেন।

অনলাইনে ওই সাক্ষাৎকারে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে জ্ঞাত বাইডেনের জ্ঞাত থাকার স্বীকৃতি হিসেবে সাক্ষাৎকারটিকে বিবেচনা করছেন নেটিজেনরা।

অনলাইন জগতে নেটিজেনরা বলছেন সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মতোই বাইডেনের শাসনকাল গাজার গণহত্যার কারণে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। ইরাকে আগ্রাসনের মাধ্যমে হাজার হাজার ইরাকি নাগরিককে হত্যার জন্য বুশকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট শাদি হামিদ এক্সে এক পোস্টে লিখেনÑ‘বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি কয়েক দশকের মধ্যে জঘন্যতম নীতির একটি। এটি জর্জ ডব্লিউ বুশের নীতির সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করতে পারে, যা বিশ্বে আমেরিকান স্বার্থ ও নীতির জন্য আরও বিপজ্জনক অবস্থানের সৃষ্টি করেছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনি অ্যাকাডেমিক রিফাত আল আরিরের সর্বশেষ একটি পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই পোস্টে তিনি গাজায় গণহত্যার জন্য আমেরিকার ক্ষমতাসীন থাকা ডেমোক্রেটিক পার্টি ও জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন।

সাংবাদিক সানা সাইদ এক্সে এক পোস্টে বাইডেনকে উদ্দেশ্য করে লিখেনÑ‘আমি আশা করব, ব্যক্তিগত আনন্দের সঙ্গেই যত ফিলিস্তিনিকে আপনি হত্যা করেছেন, তাদের আত্মা জীবনের শেষ পর্যন্ত আপনাকে ধাওয়া করবে এবং কবরেও আপনাকে অনুসরণ করবে। ব্লিনকেন ও বাইডেন, ফিলিস্তিনের কসাই, এটি ছাড়া পুরো প্রশাসনের আর কোনো উত্তরাধিকার রেখে যাননি আপনারা।’

সিরিয়ায় সরকার ও এসডিএফের মধ্যে যুদ্ধবিরতি

স্পেনে ফের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, চালক নিহত

গাজায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র: জাতিসংঘ

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে তুরস্ক: এরদোয়ান

ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ক্যাথলিক ধর্মযাজকেরা

বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিক পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত

ভয়াবহ দাবানলে বিধ্বস্ত চিলি, সহায়তার জন্য আর্তনাদ

তেল বিক্রি থেকে ৩০ কোটি ডলার পেল ভেনেজুয়েলা

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু