ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার পুরো চিত্র এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সরকারি বিবৃতি, সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন নথি থেকে কিছু তথ্য সামনে এলেও যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় ও প্রভাব জানতে আরো সময় লাগতে পারে।
এর একটি উদাহরণ হলো মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটি মোতায়েন শুরুর পর থেকে এর স্ট্রাইক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে আটটি আত্মহত্যার ঘটনা বা প্রচেষ্টা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে জাহাজের নাবিকদের পাশাপাশি বিমান শাখা, স্ট্রাইক গ্রুপের কর্মকর্তাে এবং সংশ্লিষ্ট ডেস্ট্রয়ারগুলোর সদস্যরাও রয়েছেন।
আব্রাহাম লিংকনের নির্ধারিত ছয় মাসের মিশন পরবর্তীতে দীর্ঘায়িত হয়। প্রায় ২৮৬ দিনের মোতায়েনে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত লিংকন সমুদ্রে ২৮৬ দিন অবস্থান করে—যার মধ্যে ২০০ দিনেরও বেশি সময় কেটেছে সরাসরি অভিযানের এলাকায়। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা, পরিবারের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ, সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা এবং অন্যান্য চাপ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, দীর্ঘ মোতায়েনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয় এবং প্রতিটি ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তবে কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব বাহিনীর ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিংকনের ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা বা ব্যর্থতার একমাত্র প্রমাণ নয়। দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, মানসিক চাপ, রসদ সরবরাহ, প্রস্তুতি ও জনবলের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আরো তথ্য ভবিষ্যতে প্রকাশ পেতে পারে।
এখন আব্রাহাম লিংকন সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে, তা সম্ভবত একটি বিশাল ধাঁধার সম্পূর্ণ চিত্র নয়, বরং তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। এখন প্রশ্ন হলো, এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকৃত অবস্থার কোন দিকগুলো এখনো জনসাধারণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে?
সামরিক অভিযানের অনেক তথ্য নিরাপত্তাজনিত কারণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। কংগ্রেসের নথি, সামরিক তদন্ত, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যদের বক্তব্যের মাধ্যমে অনেক তথ্য পরে প্রকাশ্যে আসে। ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকৃত ব্যয় ও চাপের পূর্ণ চিত্র পেতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও সময় লাগতে পারে।
লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন তাই বৃহত্তর একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—প্রকাশ্যে আসা তথ্যের বাইরে ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ওপর মানসিক, অপারেশনাল ও রসদসংক্রান্ত চাপের প্রকৃত মাত্রা কতটা। এ প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর ভবিষ্যতের নথি ও তদন্ত থেকে আরো স্পষ্ট হতে পারে।
সূত্র: বার্তা সংস্থা মেহের
আরএ