নাসার চন্দ্রাভিযান
আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানের চারজন ক্রু সদস্য ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করতে যাচ্ছেন। তবে এর আগে ক্রু সদস্যরা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের প্রস্তুতি নেন। এ অভিযানটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে পানিতে অবতরণের মাধ্যমে শেষ হবে।
শুক্রবার আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৬টা) কিছুক্ষণ পরে মহাকাশযানটির সমুদ্রে অবতরণের কথা রয়েছে। পানিতে অবতরণের ফলে নাসা ক্যাপসুলটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরীক্ষার সুযোগ পাবে।
মহাকাশযানটিকে সুরক্ষা দিতে উদ্ধার অভিযানে আমেরিকার নৌবাহিনীর জাহাজ ও ডুবুরিরা অংশ নেবেন। নভোচারীদের উদ্ধার করে নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তারা হিউস্টনে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ফিরে আসবেন।
আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানটি মহাকাশে মানুষের ভ্রমণের সর্বোচ্চ দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ায় ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু সেটি কোনোভাবেই অভিযানের শেষ ছিল না।
পৃথিবীতে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকটপূর্ণ পর্যায়। সবকিছু নিখুঁতভাবে কাজ করতে হবে এবং এটি সঠিকভাবে করার জন্য তাদের হাতে একটি মাত্র সুযোগই থাকবে।
কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন ম্যাক-৩২ গতিতে (শব্দের চেয়ে ৩২ গুণ বেশি বেগে) বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পথে ছিলেন। এটি এক তীব্র ঝাপসা গতি যা ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে নাসার অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের পর আর দেখা যায়নি। ‘ইন্টিগ্রিটি’ নামক তাদের ওরিয়ন ক্যাপসুলটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। জরুরি অবস্থা ছাড়া তাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ক্রু সদস্যরা বলেছেন, তারা এমনসব জিনিসের সাক্ষী হয়েছেন, যা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।
আর্টেমিস-২ হচ্ছে ১৯৭২ সালের পর চাঁদে পাঠানো প্রথম মানববাহী মহাকাশযান। ক্রু সদস্যরা তাদের ১০ দিনের অভিযান শুরু করতে গত ১ এপ্রিল কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করেন। ৫৬ বছর আগে অ্যাপোলো-১৩ অভিযানের পর এটি হবে সবচেয়ে দ্রুত ও উষ্ণতম মানববাহী মহাকাশযানের পৃথিবীতে পুনঃপ্রবেশ।
ক্রু সদস্যদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবে যে নাসা চাঁদের ওপার থেকে নভোচারীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পারে। পৃথিবীতে তাদের সফল প্রত্যাবর্তন আর্টেমিস-৩ অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে, যার মাধ্যমে মানুষ আবার চাঁদে যেতে পারবে।