হোম > বিশ্ব

নেপালে পাহাড়ি ঢলে বিপর্যয়, নিহত বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৪০০

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত।

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী, বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ৪০০ মানুষ। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চীন সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত এলাকায় তুষারধসের কারণে লহেন্দে নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। বন্যার আগে এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয়রা কোনো সতর্কবার্তাও পায়নি।

প্রথমে রাসুয়ার তিমুরে আঘাত হানা বন্যায় কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাজার এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। কাস্টমস চেকপোস্টে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক ট্রাক ও যানবাহনও ভেসে যায়। এরপর বন্যার পানি ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৪ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। ৯টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ১৯টি মোটরযান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক বন্যায় ভেসে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখোঁজের সংখ্যা বিবেচনায় এ বন্যা নেপালের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগে পরিণত হতে পারে। ১৯৯৩ সালে সর্লাহি, রাউতাহাট ও মাকওয়ানপুরে বন্যায় প্রায় ১ হজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর পর এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানান, বন্যার খবর স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে পাওয়া যায় এবং চার মিনিটের মধ্যে ভাটির এলাকাগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। তবে ততক্ষণে রাসুয়ার বড় অংশ প্লাবিত হয়ে গেছে। উজানে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় আগাম সতর্কতা দিতে পারেনি।

কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তের ওপারে দুর্যোগের উৎপত্তি হওয়ায় নেপালের নিজস্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এ জন্য চীন-নেপাল সীমান্তে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান, উন্নত সেন্সর ও ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারিব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বন্যার পর নেপাল ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠকে চীন সম্মত হয়েছে—তার ভূখণ্ডে নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে দ্রুত নেপালকে জানানো হবে। তবে বুধবারের বিপর্যয় দুই দেশের মধ্যে ২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি সহযোগিতা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগে বড় ধরনের ঘাটতি প্রকাশ করেছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

আরএ

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন চায় কানাডা

নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণ কী, এত পর্যটক কেন গিয়েছিলেন?

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় নেপালের বন্যা

ইউরোপে গিয়ে কেন আমেরিকানদের ওজন কমে

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারে জেলেনস্কির নতুন উদ্যোগ

নেপালে আকস্মিক বন্যায় কৈলাসগামী ৪০০ তীর্থযাত্রী নিখোঁজ

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাষাবাদ, গাজায় বাঁচার লড়াই কৃষকদের

বন্যাবিধ্বস্ত নেপালকে সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে কোনো তাড়াহুড়া নেই: ট্রাম্প

ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা: ইউএসজিএস