‘মুসলমানদের যদি এতই নামাজ পড়তে হয় তো বাংলাদেশ বা পাকিস্তান চলে যাক। ওরা কোন হরিদাস পাল!’—পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উদ্দেশে ঠিক এ ভাষাতেই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর এবার খোদ মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা করে কামান দাগালেন তিনি। রাজ্যের সাবেক সরকারপ্রধানকে সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন বিজেপির এ মন্ত্রী।
কালীঘাটে চরম উত্তেজনার মধ্যে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ঠিক পরই মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বস্ত’ নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। আর এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ময়দানে নেমে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ও কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন দিলীপ।
গত বুধবার রাতে রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কালীঘাটের বাড়ি থেকে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিএসওদের সরিয়ে অন্য তিন পিএসও নিয়োগ করা হয়। ডেরেকের দাবি, ‘যে পিএসওরা বিগত ২০ বছর ধরে তৃণমূল নেত্রীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন, মূলত তাদেরই প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন।’ এ প্রসঙ্গ টেনেই গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র আক্রমণ শানান দিলীপ ঘোষ।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে সরকার একসময় দুজন নিরাপত্তা রক্ষী দিয়েছিল, আমি তো চয়েস করিনি। সরকার দিয়েছিল, তারা থাকতেন। তাহলে তিনি কেন চয়েস করবেন?’ পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, তিনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন এগুলো সঞ্চালনা করেছেন কাকে কোথায় পাঠাবেন! ছয় মাস অন্তর চেঞ্জ করে দিতেন। তার থানা কালীঘাটে কোনোদিন ওসি বদল হয়নি। এয়ারপোর্ট থানায় কোনোদিন ওসি বদল হয়নি। তো এখন যিনি সরকারের মুখে আছেন, তার অধিকার আছে এটা দেখার। সেটা মুখ্যমন্ত্রী করছেন, তাহলে তিনি মানবেন না কেন?
এরপর চরম বিতর্কিত সে মন্তব্যটি করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, ‘তিনি সংবিধান মানবেন না, সরকার মানবেন না। এ দেশে আছেন কেন? চলে যান বাংলাদেশে।’
শুধু নিরাপত্তা ইস্যুই নয়, মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক প্রতিবাদ মিছিল এবং রাজ্যের হকার সমস্যা নিয়েও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, ‘তিনি মিছিল করুন, সময় আছে তো। মিছিল করে নিজেকে জীবিত রাখুন।’
হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ হকারদের পয়সা নিয়ে বসিয়েছে তার লোকেরা। সিপিএমও চেঁচাচ্ছে। তারাও বসিয়েছে হকারদের পয়সা নিয়ে। রাস্তাঘাট ব্যবসা করার জন্য নয়, হকার সমস্যার দায় পুরোপুরি তৃণমূলের ওপর চাপিয়ে দিলীপ বলেন, ‘হকারদেরও দায়িত্ব আছে, যাদের টাকা দিয়েছে, যারা বসিয়েছে, তাদের গিয়ে বলুন! সরকার দায়িত্ব নিয়েছে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার, তাদের জীবন সচল রাখার দায়িত্ব সরকার পালন করবে।’
রাজ্যের সাম্প্রতিক দুই হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তার হওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। সাবেক মন্ত্রী উদয়ন গুহর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘আপনারা উদয়ন গুহর যেসব বাইট দেখাতেন। তিনি এতদিন বাইরে ছিলেন কী করে? সমাজবিরোধীদের মতো কথাবার্তা! আগেই গ্রেপ্তার হওয়া উচিত ছিল।’
অন্যদিকে সুশান্ত ঘোষের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলেন, এত সব একই ব্যাপার। এরা প্রতিদিন সকালে (কাউন্সিলররা) লোকজনকে ফোন করত, টাকা চাইত। এতদিন ভয়ে লোকজন কথা বলতে পারেনি। এখন অভিযোগ করছে। লোকের ফ্ল্যাট নিয়ে নিয়েছে, জমি নিয়ে নিয়েছে। ক্লাব দখল করে নিয়েছে, ভেরি দখল করে নিয়েছে- এতদিন কিছু বলতে পারেনি। জনগণ ভরসা পেয়ে এখন অভিযোগ করছে।
এএস