হোম > বিশ্ব

ইরান আক্রমণের পক্ষে ওয়াশিংটনের অদ্ভূত যুক্তি

আমার দেশ অনলাইন

ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পাঁচ দিন পরও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এবং এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করতে চান, সে বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন প্রথমে বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে’ এটা নিশ্চিত করা।

কিন্তু এরপরের কয়েক ঘন্টা এবং দিনগুলোতে, সে যুক্তি বদলে গেছে।

হামলার পক্ষে ট্রাম্প প্রথম বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে হবে। তারা কোনোভাবেই পরমাণু শক্তিধর হতে পারবে না। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌসক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং নৌবাহিনী, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা এবং এই অঞ্চলে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতে চাইছে। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে যুদ্ধের বৃহত্তর উদ্দেশ্য হল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানের ভবিষ্যত কেমন হতে পারে অথবা কেন তিনি বিশ্বাস করেন যে এই অভিযান সম্পন্ন হলে দেশটি আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না, সে সম্পর্কে ট্রাম্প কোনো কথা বলেননি।

এরপর সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে বললেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। শনিবার ট্রাম্প ইরানীদের বলেছিলেন, ‘শাসন ব্যবস্থার পরবর্তন করে, তাদের হাতে ইরানের নেতৃত্ব’ তুলে দেবেন।

তবে খামেনি নিহত হলেও, উত্তরাধিকার হিসেবে তার কাকে পছন্দ, তা এখনো স্পষ্ট করে বলেননি।

তবে ট্রাম্পের অবস্থান মাঝে মাঝে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথসহ অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলছে না।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘন্টা আগে সোমবার প্রতিররক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা উৎখাত যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার লক্ষ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, হামলার ফলে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো তথাকথিত রেজিম চেঞ্জ যুদ্ধ নয়, কিন্তু শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতভাবেই বদলে গেছে এবং এর ফলে বিশ্ব এখন আরো নিরাপদ হয়েছে।’

এরপর ইরানে হামলা চালানো নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরানে হামলার বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ ছিল ইসরাইল এবং একবার দেশটিতে হামলা হলে নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। সেই চিন্তা থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই দেশটিতে হামলা করেছে।

এদিকে, ইরানে বিমান অভিযানের বাইরে বিস্তারিত বা স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বেশিরভাগ রিপাবলিকান প্রকাশ্যে ট্রাম্পের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। তারা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে পড়তে পারে।

হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির র‌্যাঙ্কিং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ সোমবার এনপিআরকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কোথায় ছিল সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য দেখিনি, তাই আমি মনে করি না যে ইরান থেকে আসন্ন হুমকি আসার কোনো বিশ্বাসযোগ্য দাবি আছে।’

আরএ

ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলা

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন হুমকি-এমন কোনো প্রমাণ নেই

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজার সেনা ও ২০০ যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে

লেবাননের একটি হোটেলে ইসরাইলের হামলা, হতাহতের শঙ্কা

মার্কিন জনগণকে অবজ্ঞা করছেন ট্রাম্প: ডেমোক্র্যাট সেনেটর

লেবাননে ইসরাইলের বোমাবর্ষণে দুইদিনে নিহত ৫০, আহত ৩৩৫ জন

দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯টি ড্রোন প্রতিহত করেছে সৌদি আরব

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরানের লাভ না ক্ষতি

ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তীব্র নিন্দা