অধিকৃত পশ্চিম তীরে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত একটি স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। সাত দশকের বেশি সময় ধরে চালু থাকা ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএর এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। প্রতি বছর অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে এখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। কেন্দ্রটি ফিলিস্তিনিদের দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, তাদের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই ইসরাইলি বাহিনী স্থাপনাটিতে প্রবেশ করেছে। তবে ইসরাইলের দাবি, সেখানে নতুন একটি শিক্ষাকেন্দ্র ও কমিউনিটি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।
ফিলিস্তিনিরা অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বৃহত্তর একটি অভিযানের অংশ।
ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভ হয়। এ সময় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ইসরাইলি সেনারা। সংঘর্ষের মধ্যে এক ফিলিস্তিনি কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।
১৯৪৯ সালে ইউএনআরডব্লিউএ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের সহায়তা দেওয়াই ছিল সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় প্রায় ৬০ লাখ ফিলিস্তিনিকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে সংস্থাটি।
কালান্দিয়া এলাকায় ইউএনআরডব্লিউএর এই স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর প্রবেশ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ইসরাইলি সেনারা জোরপূর্বক ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করে। সে সময় কেন্দ্রটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র ফিলিস্তিনিদের উন্নত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক ফিলিস্তিনি নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
তবে এখন সেই কেন্দ্রটি ফাঁকা। যেখানে একসময় ফিলিস্তিনিদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হতো, সেখানে এখন উড়ছে ইসরাইলের পতাকা।