কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ কানেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবায় সামরিক হামলা চালায়, তাহলে কিউবার মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত’ লড়াই করবে। স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘কিউবা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।’ এর জবাবে দিয়াজ কানেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কিউবার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রচারণা ও মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি একে কিউবার জনগণের প্রতি অপমান এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কিউবা নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না যে যুক্তরাষ্ট্র হামলা করবে কি না, তবে তারা এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
তার ভাষায়, ‘যদি হামলা হয়, তাহলে কিউবার জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু যুদ্ধকে ভয়ও পাই না।’
দিয়াজ-কানেল কিউবার স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর আন্তোনিও মাসেও-এর একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেন। মাসেও বলেছিলেন, ‘যে কিউবা দখল করতে আসবে, সে শুধু রক্তে ভেজা এই মাটির ধুলাবালি নিয়েই ফিরতে পারবে।’
প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং কিউবার কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস।
তিনি আরো বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ৩২ জন কিউবান প্রাণ হারিয়েছিলেন। তার দাবি, প্রয়োজন হলে কিউবার লাখ লাখ মানুষ দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, জানুয়ারিতে জ্বালানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে কিউবার পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়েছে। কিউবায় চীন বা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে-যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি নাকচ করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট জানান, কিউবায় কোনো চীনা সামরিক ঘাঁটি নেই।
দীর্ঘদিনের মার্কিন অবরোধকে তিনি ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ’ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এ অবরোধের কারণেই কিউবায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জ্বালানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ‘অপরাধ’ এবং ‘গণহত্যার’ শামিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের রাজনৈতিক বন্দি ও দমন-পীড়নের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন দিয়াজ-কানেল।
সূত্র: আনাদোলু
আরএ