ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেছেন মাত্র এক সপ্তাহ। এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় বিষয়ে বিভিন্ন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। ঘোষণা করেছেন নিজের নানাবিধ পরিকল্পনার কথা। গাজা নিয়ে এমনই একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে গাজা পুরোপুরি ‘খালি’ করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাদের মিশর ও জর্ডানসহ অন্য আরব দেশে পাঠানোর ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তার এ বক্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গত শনিবার প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে ২০ মিনিটের প্রশ্নোত্তরপর্ব ছিল ট্রাম্পের। সে সময় একথা বলেন তিনি।
এ সময় ট্রাম্প বলেন, ১৫ মাসের গাজা ইসরাইল যুদ্ধে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার সব কিছুই লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে বেসামরিক নাগরিকরা। তিনি চান, মিশর ও জর্ডান গাজাবাসীদের আরো বেশি মাত্রায় গ্রহণ করেন। তাই এ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন। রোববার মিশরের নেতার সঙ্গেও ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করার বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ১৫ লাখ মানুষকে অন্য দেশে সরিয়ে গাজা পুরোপুরি সাফ করে ফেলতে হবে। তবে থামবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। কারণ, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ভূখণ্ড নিয়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। আর এই সমস্যার সমাধানে এখন কিছু একটা করতে হবে। তবে তাদের সরিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ অস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সেখানে ইতোমধ্যে ২৪ লাখ জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৪ ফিলিস্তিনি। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেশিরভাগ অংশই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে শত শত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণে অনেক বছর ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।
তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার একদিন আগে ১৯ জানুয়ারি গাজা-ইসলাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। সেই সঙ্গে জিম্মি বিনিময়েও সম্মত হয় তারা। তবে এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী না বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতিতে তার তেমন আস্থা নেই।
এদিকে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালাও স্মোট্রিচ। কারণ, তিনি গাজা যুদ্ধ বন্ধে তীব্র বিরোধী। তাই গাজা ভূখণ্ড থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়াকেই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তিনি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গাজাবাসী অন্যত্র শান্তিময় জীবন প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।