গাজায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে গঠিত বোর্ড অব পিসের জন্য অস্বস্তিকর সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল আমেরিকা ও ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের পথ ত্বরান্বিত করবে। কিন্তু এ যুদ্ধের ফলে হামাস উল্টো আরো বেশি উৎসাহিত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর মাত্র ৯ দিন আগে ট্রাম্পের গঠিত শান্তি পর্ষদটি গাজায় মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের জন্য ১৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছিল। বোর্ড অব পিসের এমন সমর্থন আদায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হামাসের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
কিন্তু ইরান যুদ্ধ দ্রুত এ অঞ্চলের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়। বোর্ড অব পিসকে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব করা উপসাগরীয় দেশগুলো হঠাৎ ইরানের পাল্টা হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দেশগুলো এখন অন্যদের সহায়তার বদলে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরানে কী ঘটছে, হামাস তা দেখছে এবং বুঝতে পারছে। তাদের শেষ আশ্রয়স্থলও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা যখন এসব কথা বলেছিলেন, তখন তেহরান তার শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সামরিক স্থাপনাগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রথম দফার হামলার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি।
তখন ওই কর্মকর্তা যুক্তি দেন, যুদ্ধ চলাকালে অল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দিকে মনোযোগ সরাতে হলেও হামাসের জন্য প্রতিটি নতুন আঘাতই ক্ষতির কারণ হবে। কারণ, এসব আঘাত তেহরানে তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ওপরই হানা দিচ্ছে।
তবে এখন মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সে আশাবাদ সময়ের অনেক আগেই করা হয়েছিল। বোর্ড অব পিসের সঙ্গে আবার হামাসের আলোচনা শুরু হলেও এখনো নিরস্ত্রীকরণসংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে দলটি।
আলোচনায় যুক্ত একটি দেশের আরব কূটনীতিক বলেন, যুদ্ধে ইরান টিকে থাকতে পেরেছে। এতে হামাস শুধু উৎসাহিতই হয়নি; বরং তারা বুঝেছে, যত দীর্ঘ সময় সম্ভব নিজেদের তাস ধরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের আগে হামাস ভারী অস্ত্র ত্যাগের ইঙ্গিত দিলেও সম্প্রতি তাদের অবস্থান আরো কঠোর হয়েছে।
তার মতে, ইরানের কৌশল অনুসরণ করে হামাস নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। তারা সরাসরি বোর্ড অব পিসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং ২ এপ্রিল একটি পাল্টা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও ওই প্রস্তাব বোর্ডের দাবির তুলনায় অনেক কম ছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোয় হামাস আবার আলোচনা ধীরগতির করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এবার তারা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে তাদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা এগোবে না।
এদিকে গত বুধবার বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ স্বীকার করেছেন, হামাস গাজায় নিজেদের ক্ষমতা আরো সুসংহত করছে। একই সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠন পরিকল্পনা স্থবির হয়ে পড়ছে।