কলকাতার প্রাণকেন্দ্র রেড রোডের বিশাল ঈদের জামাত কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল এই শহরের দীর্ঘকালের এক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের ইতিহাসে দাঁড়ি পড়ল। এবার রেড রোডে ঈদের নমাজ আদায়ের অনুমতি মেলেনি। রাস্তা আটকে ধর্মাচরণের বিরুদ্ধে সরকারি নীতির যুক্তি দেখিয়ে কার্যত এখানে শতাব্দীপ্রাচীন ঈদের নামাজকে বন্ধ করে দেওয়া হল।
মুসলমানরা আশা করেছিল ঐতিহ্য মেনে এবারো অনুমতি দেওয়া হবে এবং রাজ্য পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় সুষ্ঠুভাবে নামাজ সম্পন্ন হবে। কিন্তু সেই আশায় পানি ঢেলে দেওয়া হয়েছে।
রেড রোডে অনুমতি না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এবার ঈদের নমাজের স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। শুক্রবার খিলাফত কমিটির সভাপতি জাভেদ আহমেদ খান জানিয়েছেন, রেড রোডের পরিবর্তে এবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে শহরের আরেক ঐতিহাসিক স্থান ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। ইতোমধ্যে সেনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্রিগেডে নামাজ পড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। ঈদের দিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এই জামাত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নামাজ পড়াবেন ইমামে ঈদাইন ক্বারী ফজলুর রহমান।
রেড রোডে ঈদের নামাজের ইতিহাস বহু পুরোনো। ১৯১৯ সাল থেকে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বহু আগে এই নামাজ হত শহীদ মিনারে, কিন্তু বৃষ্টি ও বর্ষার কারণে তা রেড রোডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (যখন রেড রোড বিমানঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল) এবং ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা পরিস্থিতির মতো চরম আপৎকালীন সময় ছাড়া এই ঐতিহ্যে কখনো ছেদ পড়েনি। রেড রোড, যা বর্তমানে ইন্দিরা গান্ধি সরণি নামে পরিচিত, সেখানে নামাজের জন্য বরাবরই পুলিশ ও সেনার অনুমোদনের প্রয়োজন হত।
এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম সমাজের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, রেড রোডের ঈদের জামাত কলকাতার সম্প্রীতির এক অনন্য দলিল ছিল। রাস্তা আটকে ধর্মাচরণ না করার দোহাই দিয়ে আসলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের আবেগ ও ঐতিহ্যকেই আঘাত করা হল বলে তারা মনে করছেন। তাদের বক্তব্য, বছরে মাত্র দুটি দিন, কয়েক ঘণ্টার জন্য এই রাস্তাটি মুসলিমদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হত, যা কলকাতার সংস্কৃতির সঙ্গেই মিশে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে সেই চিরাচরিত প্রথাকে সুকৌশলে বন্ধ করে দেওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।
আরএ