প্রতিবছর রমজানের শেষ দশ দিন আল-আকসা চত্বরে তাঁবু খাটিয়ে ইতিকাফ করা ছিল ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আল-আকসা মসজিদ অবরুদ্ধ। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের জেরে ঘোষিত জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে এবার সেই আমেজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জর্ডান পরিচালিত ওয়াকফ কমিটির কর্তৃত্বে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার বাহিনী।
২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণী শায়মা আবেদ জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি আল-আকসায় ইতিকাফ করছেন। সেখানকার আধ্যাত্মিক পরিবেশ তাকে বারবার টেনে নিয়ে যেত।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আল-আকসা ছিল আমাদের এক মিলনমেলা। জেরুজালেম, পশ্চিম তীর কিংবা তুরস্ক-ইন্দোনেশিয়ার মতো দূরদেশ থেকে আসা মুসলিমদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হতো এখানে। লাইলাতুল কদরের সেই রাতে মানুষের যে জনসমুদ্র দেখা যেত, তা আজ শুধুই কল্পনা।
এবারের লাইলাতুল কদরে আল-আকসার সেই মায়াবী পরিবেশ নেই। সেহরির আগমুহূর্তের গুঞ্জন কিংবা ফজর পর্যন্ত সম্মিলিত কান্নার রোল- সবই আজ স্তব্ধ। বদ্ধ দুয়ারের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো ফিলিস্তিনির হৃদয়ে এখন একটাই হাহাকার- হে আল্লাহ! তোমার ঘর আমাদের জন্য আবারও খুলে দাও।