কাশ্মীরের পেহেলেগামে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তান দায়ীÑভারতের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম। তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ সংঘটিত হয়েছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা পর্যালোচনা তার কাছে নেই।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলা এবং এতে পাকিস্তানের কথিত সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, পাকিস্তানের কথিত ভূমিকাকে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বিবেচনা করেন কি না।
জবাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এতটা দূর যেতে চাই না। আমি জানি, ভারতে এ কথা বলা অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে অবশ্যই আমি মোদির ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা পাকিস্তানিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি এবং মনে করেছি, এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”
পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তিনি কেন সমালোচনা করছেন নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, প্রথমে পাকিস্তানের দায় নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘এটি প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আমি বলছি না যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেনি। কিন্তু নিশ্চিতভাবে দায় নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের ভিত্তিতে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় সেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ চালানো হয়েছে।’
২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হন। হামলার পরপরই ভারত পাকিস্তানকে এর জন্য দায়ী করে। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এই হামলাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বাড়ে। পরবর্তীতে ভারত পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালায়।
এর জবাবে পাকিস্তানও সামরিক পদক্ষেপ নেয়। দুই দেশের মধ্যে ৮৮ ঘণ্টা ধরে সংঘাত চলার পর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
সূত্র: ডন
আরএ