আলজাজিরার প্রতিবেদন
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এরই মধ্যে ঝাঁকুনি লেগেছে। এতে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলো।
যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং পারস্য উপসাগরের আরব দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে। আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল ও সীমিত অর্থনীতির দেশ, বিশেষ করে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা এবং জর্দান থেকে মিশর ও ইথিওপিয়ার নীতিনির্ধারকেরা সংঘাতের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচণ্ড হিমশিম খাচ্ছেন।
নিজেদের প্রয়োজনের ৮০ শতাংশ জ্বালানি উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করে পাকিস্তান। কয়েক বছর ধরেই দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত। যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকট সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ইসলামাবাদ।
যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তানের পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত প্রচণ্ডভাবে কমে আসে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দেয়, সরকারি দপ্তরে কর্মদিবস চার দিনে নামিয়ে আনে, অর্ধেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য জ্বালানির অনুমোদন কাটছাঁট করে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, ঈদুল ফিতরের মধ্যে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব তিনি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, সরকার জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় বহন করবে।
এর আগে ইসলামাবাদ সরকার প্রতি লিটার পেট্রোল বা ডিজেলের জন্য ৫৫ রুপি (বাংলাদেশি ২৪ টাকা) বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও সরকারের ভর্তুকি জনসাধারণের জন্য সুরক্ষার কাজ করবে, কিন্তু যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে জ্বালানির দাম বেড়ে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপরদিকে বাংলাদেশ তার জ্বালানির ৯৫ ভাগ আমদানি করে। দেশটিতে কয়েক দিনের মধ্যেই জ্বালানির মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু কিছু জেলায় রেশনিং সত্ত্বেও জ্বালানির অভাবে পাম্প বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশ মিশর সরকার বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়েছে। দেশটিতে সাধারণ দিনগুলো সব দোকান রাত ৯টার মধ্যে এবং ছুটির দিনে রাত ১০টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, সংঘাতের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, জর্ডান, সেনেগাল, মিশর, অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া ও জাম্বিয়া সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে দেশগুলোতে বিপুল হারে মূল্যস্ফীতি ঘটবে।