ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসন সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে নীরবে আলোচনা চলছে। ছয়টি নির্ভরযোগ্য সূত্র যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মার্কিন প্রশাসন গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। কিন্তু যুদ্ধ, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে সেই লক্ষ্য কখনোই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর অজুহাতে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামো গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা সেই বিশাল উপস্থিতি এখন নতুন করে পুনর্বিবেচনার মুখে পড়েছে।
তবে সাম্প্রতিক ইরান সংঘাত সেই অবকাঠামোর বড় দুর্বলতা সামনে এনেছে। দীর্ঘদিনের এ যুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত আমেরিকার ১৮ সেনা নিহত হয়েছেন।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা আগেভাগেই বিবেচনায় রেখে সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে কাজ করছেন তারা। সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট কোনো কৌশল তুলে ধরেননি।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী, এক ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিপুল সামরিক সক্ষমতা। সংঘাতের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে সিআইএর যেসব কর্মকর্তা অঞ্চলটি ছেড়েছিলেন, তাদেরও আবার ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
যুদ্ধ শেষ হলেও যেসব মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে থেকে যাবেন, তাদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে পেন্টাগন। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষায় কিছু সামরিক স্থাপনা ভূগর্ভে স্থানান্তরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে তারা।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা খুব কম। এর পরিবর্তে ট্রাম্প এখন অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তেহরান সরকারকে দুর্বল করার কৌশলে জোর দিচ্ছেন।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং স্বল্পমেয়াদে তারা নতি স্বীকার করবে—এমন সম্ভাবনা কম।
সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ধরে রাখতে চায়। তবে সেগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কতটা ব্যয় বহন করবে তার ওপর।