হোম > বিশ্ব

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলাম বিদ্বেষকে হাতিয়ার করছে ইসরাইল

আল জাজিরার নিবন্ধ

আল জাজিরা

ছবি: সংগৃহীত।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ইসরাইল নিজেকে ‘কট্টরপন্থি ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের রক্ষাকবচ হিসেবে তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণা বেড়েছে। ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’-এর মতো উদ্যোগ এবং মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মসজিদে হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি জোরদার হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়কার অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বুশ একটি মসজিদে গিয়ে বলেছিলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু বর্তমান মার্কিন ডানপন্থি রাজনীতিতে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা অনেকটাই অনুপস্থিত।

ইসরাইলও এই রাজনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগাচ্ছে বলে মতামত নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেরুজালেমে ইসরাইল আয়োজিত একটি ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর ডানপন্থি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নেতানিয়াহু সেখানে ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলামের আগ্রাসন’-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব রাজনৈতিক শক্তিকে মিত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রবণতার পেছনে ট্রাম্পপন্থি রাজনীতির পাশাপাশি ইসরাইলের জনসংযোগ ও ‘হাসবারা’ প্রচারণারও ভূমিকা রয়েছে। ইসরাইলি সরকার পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম ও মুসলিম অভিবাসীদের ঘিরে ভয় তৈরি করে নিজেদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্নকে সামনে আনতে চাইছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাতেও ইসরাইল-সমর্থিত একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার মাধ্যমে মুসলিম অভিবাসীদের হুমকি হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ উঠেছিল।

ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি সমালোচকদের মোকাবিলায় আরো আগ্রাসী প্রচারণার পথ বেছে নিয়েছে। এ প্রচারণায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থিদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দৃঢ় হচ্ছে।

তবে ইসলামোফোবিয়া উসকে দিয়ে ইসরাইল পশ্চিমা জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী সাফল্যও দেখাচ্ছে যে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে।

নিবন্ধের শেষ দিকে বলা হয়, ভয় ও বিদ্বেষ সাময়িকভাবে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াতে পারলেও তা পশ্চিমা সমাজে বিভাজন ও সহিংসতা আরো বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইসরাইল যদি পশ্চিমা সমর্থন ধরে রাখতে চায়, তাহলে ইসলামোফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার পরিবর্তে সমতা, শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোই বেশি কার্যকর হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোরও উচিত বিদেশি প্রভাব ও প্রচারণার বিষয়টি উপলব্ধি করে নিজেদের বহুত্ববাদী মূল্যবোধ রক্ষা করা।

আরএ

চীনে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯

আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণীয় ১০ শহর

এল নিনোর প্রভাব: পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমানোর ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া মাঝপথে বন্ধ হলো কেন

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় নতুন কৌশলে ইরান

মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন না ইমরান খান

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে তেলের দাম, জাপানের নিক্কেই সূচকে পতন

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক যুদ্ধে কতটা সফল হবেন ট্রাম্প