যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথেই গতি পেতে শুরু করেছে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ফলে ট্রাম্প-পরবর্তী হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনাও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে মাঠে নামছেন, যেগুলো আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। কয়েকজন প্রকাশ্যেই হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে ভবিষ্যতে প্রার্থী হওয়ার পথ খোলা রাখছেন। আবার কেউ ভাবছেন, দলে তাদের জন্য আদৌ জায়গা তৈরি হবে কি না।
সময় ফুরিয়ে আসছে—এমন অনুভূতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও আলোচনায় টেনে এনেছে। ক্ষমতায় তার মেয়াদ যে সীমিত, তা স্বীকার করতে তিনি অনিচ্ছুক। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তেহরানের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আরো আড়াই বছর এখানে থাকব।’
সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এ সময়টায় বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠা অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচন তাদের দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ দেয়। এ সময় তারা প্রচারের বক্তব্য ও কৌশল পরীক্ষা করতে পারেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে পারেন, প্রাথমিক পর্যায়ের অঙ্গরাজ্যগুলোতে অনানুষ্ঠানিক সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে পারেন এবং যেসব প্রার্থীর পাশে দাঁড়াবেন, তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করতে পারেন।
তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণা হঠাৎ করেই যেন আরও বাস্তব মনে হচ্ছে। এর একটি কারণ হতে পারে ট্রাম্পের ভঙ্গুর রাজনৈতিক অবস্থান, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুগের সমাপ্তির আবহ তৈরি করছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ডেমোক্র্যাটরাও শেষ পর্যন্ত নিজেদের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের দিকে এগোতে শুরু করেছে।
২০২৪ সালের সেই বিপর্যয়ের স্মৃতি মঙ্গলবারও তাজা ছিল। ওই নির্বাচনে দলের শেষ মুহূর্তের প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস মিশিগানে হাজির হন ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ করে সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলতে।
২০২৮ সালের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিসই একমাত্র নন, যারা নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। নিউইয়র্কের প্রতিনিধি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ একটি শক্তিশালী প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্রচারণা গড়ে তুলছেন। যদিও তিনি এখনো নিজের পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারেননি, তবু ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর মতো নেতারাও নিজেদের অবস্থান তৈরির কাজ করছেন।
রিপাবলিকান শিবিরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রতিটি কথা ও পদক্ষেপও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ট্রাম্পের ছায়াতেই সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর রান্ড পলসহ আরও কয়েকজন সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থীও প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
এমনকি ৭৪ বছর বয়সী লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডিও মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছেন, তিনি সিনেটে পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়বেন। তবে প্রেসিডেন্ট পদে ‘একগুচ্ছ বোকা’ প্রার্থী হলে তিনি শীর্ষ পদটির জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতির সেই সময়, যখন অসংখ্য রাজনীতিক আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে ভাবেন—‘আমি কেন নয়?’ যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র যখন নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির এই প্রাথমিক পর্বটি শুরু হওয়া অন্তত আশাব্যঞ্জক একটি বিষয়।
দুই প্রধান দলের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকা অবস্থায় ২০২৮ সালের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
রিপাবলিকান দলের চূড়ান্ত প্রার্থীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী হবে, নাকি দলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল শিকড়কে আবার সামনে আনা হবে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের এমন একজন প্রার্থী প্রয়োজন, যিনি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী—উভয় ধারার সমর্থকদের একত্র করতে পারবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান কার্যকর হতে পারে। তবে জরিপগুলোতে এমন একটি ভোটার মনোভাবও দেখা যাচ্ছে, যেখানে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ডেমোক্র্যাটদের ওপর যে আস্থা হারিয়েছিল, তার প্রভাব এখনো রয়েছে।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজের একটি আকর্ষণীয় সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জন আরও বেড়েছে। নিউইয়র্কে তার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারাভিযান তাকে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রগতিশীল আন্দোলনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরছে। ট্রাম্পের আমলের রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করা আলোচিত ও ভাইরাল মুহূর্ত তৈরিতেও তিনি দক্ষ। এর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে গত আগস্টে তিনি নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
শিগগিরই ৩৭ বছরে পা দিতে যাওয়া ওকাসিও-কোর্টেজ নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিনি এমন একটি অনির্দিষ্ট প্রশ্ন নিয়ে ভাবছেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, ‘কেউ কেউ মনে করেন, এটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক সময় এবং রাজনীতিতে অনেক সময় আপনি মাত্র একবারই সুযোগ পান।’
তবে গত তিনটি ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে দুজন নারী হওয়া এবং দুজনেরই পরাজিত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্নের ইঙ্গিত দিয়ে ওকাসিও-কোর্টেজ বলেন, ‘আমি একজন নারী এবং আমি লাতিনা। আর আমি মনে করি, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে।’
কমালা হ্যারিসও এমন প্রশ্নের প্রতীক হয়ে আছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে হেরে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের একটি মিশিগানে তিনি শরতের রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছেন। তবে ২০২৮ সালে আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
তবে অন্য ডেমোক্র্যাট নেতারা নিজেদের অবস্থান আগে থেকেই তৈরি করছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গভর্নর রয়েছেন। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো, যিনি নিজের রাজ্যে পুনর্নির্বাচনে স্বাচ্ছন্দ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে, গত সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত কি না—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রশ্ন নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি প্রযুক্তিটির ধ্বংসাত্মক সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার তার নতুন বই ‘গো অ্যান্ড ডু লাইকওয়াইজ: হাউ উই হিল আ ব্রোকেন কান্ট্রি’ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি তৈরির জন্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কৌশলগুলোর একটি হলো এমন বই প্রকাশ করা।
বেসিয়ার সিএনএনের কাইটলান কলিন্সকে সোমবার বলেন, ‘আমাদের এমন জায়গাগুলোতে যেতে হবে, যেখানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে যাইনি। আমাদের কয়লা খনি-অঞ্চলের মানুষের কাছে যেতে হবে, কৃষি সম্প্রদায়ের কাছে যেতে হবে এবং তাদের প্রয়োজনের কথা শুনতে হবে।’ ২০২৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না জানতে চাইলে বেসিয়ার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকারও ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তবে এবার আরও ব্যক্তিগত একটি কারণে তিনি আলোচনায় এসেছেন—ওজন কমানোর জন্য জিএলপি-১ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর। সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, বর্তমানে তার মনোযোগ পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে এবং ভবিষ্যতে কী করবেন, সে বিষয়ে তিনি ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেননি’।
ট্রাম্পের আরেক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলি, গত সপ্তাহে আটলান্টিক ফেস্টিভ্যালে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিয়ে বলেন, ‘উত্তর হলো, আমি হয়তো লড়তে পারি, তবে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
ট্রাম্প অবশ্য সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো নেতাদের নিয়ে রসিকতা করতে উপভোগ করেছেন। কিন্তু ট্রাম্প যখন ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্টে পরিণত হবেন, তখন এই খেলা আর এতটা আনন্দের নাও হতে পারে। রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে ব্যাপকভাবে এগিয়ে থাকা একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রুবিওর পক্ষ থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ভ্যান্স আইওয়ায় যান। রাজ্যটি রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার ঝুঁকিও সেখানে স্পষ্ট। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তার প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সিনেট ও গভর্নর নির্বাচনের লড়াইও অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০১৬ সালের রিপাবলিকান মনোনয়ন দৌড়ে ট্রাম্পের পর দ্বিতীয় হয়ে ১১টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টেড ক্রুজ আবারও লড়াইয়ে নামতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। আগস্টে টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিকের পডকাস্টে ক্রুজ বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট হতে চাই—এটা কোনো গোপন বিষয় নয়।’ তবে তিনিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের তালিকায় টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, ফ্লোরিডার বিদায়ী গভর্নর ও ২০২৪ সালের পরাজিত রিপাবলিকান প্রার্থী রন ডিস্যান্টিস এবং ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কটের নামও রয়েছে।
কেনটাকির সিনেটর রান্ড পল ট্রাম্পের ধাঁচের জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির ভারসাম্য তৈরিতে মুক্তবাজারপন্থী ও শুল্কবিরোধী একজন প্রার্থীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। সেই প্রার্থী কি তিনি নিজেই? ওয়াশিংটন পোস্টকে পল বলেছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত এখন ‘৫০-৫০’।
তবে এমন কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীও হয়তো আছেন, যার কথা এখনো কেউ ভাবেনি। কারণ ২০১৬ সালে রিপাবলিকান দলের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে ট্রাম্পের উত্থানের আগে তাকেও অনেকেই নিছক কৌতুকের বিষয় হিসেবে দেখেছিলেন। ডেমোক্র্যাটরাও নিজেদের মধ্যে একই ধরনের জনতুষ্টিবাদী উত্থানের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।
পরবর্তী প্রেসিডেন্টের নাম এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নাও হতে পারে। এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং ইরানের যুদ্ধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ৪ নভেম্বর সকালে যখন আমেরিকা ঘুম থেকে উঠবে এবং আগের রাতে সিএনএনের ‘ম্যাজিক ওয়াল’-এ জন কিংকে কংগ্রেস নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে দেখার পর নতুন দিনের শুরু করবে, তখন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সত্যিকার অর্থেই শুরু হয়ে যাবে।
আর দুই দল ক্রমেই ট্রাম্প-পরবর্তী ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে শুরু করবে।
এমএমআর