বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ, রাশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি কমানোর মতো একাধিক কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক ডিজেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে।
রাশিয়ার রপ্তানি বন্ধ: ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে।
চীনের রপ্তানি বন্ধ: চীনা শোধনাগারগুলো অক্টোবর মাসে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ রাখায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
ইউরোপের বাড়তি নির্ভরতা: আগে রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত ইউরোপ। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার পর এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ওপর ইউরোপের নির্ভরতা বেড়েছে।
ট্রাম্পের চাপ: অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের দাম কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইউরোপের মজুত ছাড়ার প্রস্তাব: শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ফ্রান্সের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। এতে জরুরি মজুত থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়ার কথা বলা হয়েছে, যা ইউরোপের মোট জরুরি মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভবিষ্যৎ সরবরাহ অনিশ্চিত থাকায় মজুত কমানোর ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হচ্ছে।
আইইএর বড় মজুত ছাড়: চলতি বছরের মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আইইএর প্রধান ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলো ওই মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাজারে ছেড়েছে।
এমএমআর