হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

যেভাবে পাল্টে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের মুসলিমদের রাজনৈতিক ভূমিকা

দ্য গার্ডিয়ান

নাইন-ইলেভেনে হামলার ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষের প্রবণতা শক্তিশালী রয়েছে। তবে একই সময়ে মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ডের নতুন প্রজন্ম দেশটির সংস্কৃতি, বিনোদন ও রাজনীতিতে ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

নিউইয়র্কে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকা—এসডব্লিউএএনএ—অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের নতুন প্রজন্ম নিজেদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করছে। একসময় যাদের পরিচয় মূলত অভিবাসী পাড়া, হালাল খাবারের দোকান বা স্থানীয় ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে দেখা হতো, তারা এখন টেলিভিশন, বিনোদন, রেস্তোরাঁ এবং রাজনীতির মূলধারায় জায়গা করে নিয়েছে। মামদানি এই প্রজন্মের প্রতীক এবং একই সঙ্গে তাদের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর অন্যতম অনুঘটক।

তবে এই পরিবর্তনের পাশাপাশি ইসলামোফোবিয়াও কমেনি। পিউ রিসার্চের তথ্য হচ্ছে, ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মনে করতেন ইসলাম অন্য ধর্মগুলোর তুলনায় সহিংসতাকে বেশি উৎসাহিত করে। ২০২৬ সালে সেই হার বেড়ে ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে মুসলিম পরিচয়ের রাজনীতিকদের এখনো সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে।

৯/১১-পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ডের নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বৈষম্য ও সন্দেহের অভিজ্ঞতা অনেক তরুণকে নিজেদের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে আরো সচেতন করেছে। মার্কিন কৌতুকশিল্পী রামি ইউসুফকে ৯/১১-এর পর এমনভাবে দায়ী করা হয়েছিল যেন হামলার জন্য তারও দায় রয়েছে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা অনেকের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিণত করেছে।

এই প্রজন্মের রাজনীতি শুধু মুসলিম স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে না। তারা স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, শিশুদের যত্ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বৃহত্তর ইস্যুকে সামনে আনছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতাও তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হয়ে উঠেছে।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এমন একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে মুসলিম পরিচয় থাকলেও রাজনীতির লক্ষ্য শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠী নয়; বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উন্নতি।

অন্যদিকে, ইসলামোফোবিয়াকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। মার্কিন রাজনীতিতে নির্বাচনের সময় মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমার, কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস ও র‍্যান্ডি ফাইন এবং সিনেটর টমি টিউবারভিলের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যকে এর উদাহরণ।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয় ও সন্দেহ ছড়ানোর রাজনীতি শুধু মুসলিমদেরই ক্ষতি করে না; এর মাধ্যমে বৃহত্তর নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হতে পারে। মুসলিমদের ওপর নজরদারি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বা রাজনৈতিক মতপ্রকাশ দমনের মতো ব্যবস্থাগুলো পরবর্তীতে অন্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও প্রয়োগ হতে পারে।

তবে দৃষ্টিতে বর্তমান বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—মুসলিম আমেরিকানরা আর নীরব বা প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে থাকছে না। সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নির্বাচিত পদে এখন ২৫৫ জন মুসলিম দায়িত্ব পালন করছেন; তাদের মধ্যে ১১ জন মেয়র, ১৮ জন বিচারক এবং চারজন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য।

৯/১১-এর স্মরণ অনুষ্ঠানে মামদানির অংশগ্রহণ এই পরিবর্তনের প্রতীক। সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র রুডি জুলিয়ানির সঙ্গে মামদানির করমর্দনের ঘটনা অতীত ও ভবিষ্যতের প্রতীকী সাক্ষাৎ। জুলিয়ানি মামদানির অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে মামদানি শান্ত ও সৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

৯/১১-এর পরের এক প্রজন্ম ইসলামোফোবিয়ার মধ্যে বেড়ে উঠলেও সেই অভিজ্ঞতা তাদের রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করেনি। নতুন প্রজন্মের অনেক মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ডের আমেরিকান বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক জোট গড়ে তুলছে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য উন্নততর সমাজের দাবি তুলছে। ইসলামোফোবিয়ার রাজনীতি এখনো শক্তিশালী হলেও মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান।

ডাকযোগে ভোটের ওপর ট্রাম্পের বিধিনিষেধ আটকে দিল আদালত

গাজায় ইসরাইলি অপরাধে মার্কিন মদত বন্ধের দাবি রাশিদা তালিবের

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম ১০ ডলার, অচল পাম্পের ডিসপ্লে!

নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি

পেন্টাগনে নাইন ইলেভেনের স্মরণ, আফগান যুদ্ধের পরিণতিতে ফিরে তাকাচ্ছে বিশ্ব

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান হিলারির

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি এখনো রয়ে গেছে: হিলারি ক্লিনটন

ইসলামভীতি ছড়াতে নিজের পাতা ফাঁদেই আটকেছিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে আগুন, গ্যালন ছাড়াল ৬ ডলার

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই ট্রাম্পের