হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

ঝুঁকি সত্ত্বেও বাণিজ্য যুদ্ধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল কানাডা

আমার দেশ অনলাইন

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের হুমকির মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দীর্ঘদিনের তীব্র বাণিজ্য আলোচনার পর শুক্রবার রাতে নতুন শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা শেষ হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময় আগে তিনি আলোচনায় ইতি টানার নির্দেশ দেন।

কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, কানাডার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে তার সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ বা ‘ডলার-ফর-ডলার’ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।

এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কানাডার স্বার্থে সর্বোত্তম চুক্তি পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসেছিলেন। তবে ‘যেকোনো মূল্যে বা যেকোনো সময়সীমার মধ্যে’ চুক্তি করতে তিনি রাজি নন।

কার্নির এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় মিত্রদের মধ্যে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদার তুলনামূলক ছোট পরিসরের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তবে এসব চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই অংশীদার দেশগুলো আগের তুলনায় কম সুবিধা পেয়েছে।

গত মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তবে কার্নি কখনো এমন আশাবাদ প্রকাশ করেননি। ওয়াশিংটনে আলোচনার পুরো সময় তিনি আশাবাদী থাকলেও বারবার বলেছেন, এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা আর এগোয়নি। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে নতুন ও অযৌক্তিক শর্ত চাপানোর অভিযোগ তুলেছে।

কার্নির জন্য এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার অর্থনীতি গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও দেশটি তার শক্তিশালী প্রতিবেশীর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। নতুন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডার শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন কার্নি।

তবে শুল্কের প্রভাব শুধু কানাডাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারাও এর খরচ বহন করবেন। ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ইতোমধ্যে পণ্যের দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ও তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাবও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে কার্নির বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে দেওয়া এক বক্তৃতায় কার্নি বলেছিলেন, বিশ্ব এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে আগের ভূমিকা পালন করছে না। তিনি মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে টিকে থাকার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। ওই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ট্রাম্প।

চীনের সঙ্গেও কার্নি সরকারের ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পকে বিরক্ত করেছে। চলতি বছর চীনের সঙ্গে কানাডা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়াও ওয়াশিংটনের সঙ্গে অটোয়ার সম্পর্ককে আরো উত্তপ্ত করেছে।

কানাডার নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকেই কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করছেন। তার বহুল ব্যবহৃত একটি বক্তব্য হলো—‘নস্টালজিয়া কোনো নীতি নয়।’ তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার পুরোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।

এই লক্ষ্যেই এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছেন তিনি। তবে নতুন বাজার ও অংশীদারত্ব দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধাক্কা সামাল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প কার্নির সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডাকে নিজের দাবি মানাতে প্রয়োজনে তিনি দেশটির ওপর ‘অর্থনৈতিক চাপ’ সৃষ্টি করতে প্রস্তুত। এমনকি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার আকাঙ্ক্ষার কথাও একাধিকবার বলেছেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের চাপ ও হুমকিই কানাডায় উল্টো জাতীয়তাবাদী আবেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্য আলোচনায় যাওয়ার আগে অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিক কার্নিকে কোনো ছাড় না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

কার্নির সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রাদেশিক নেতারাও তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। রক্ষণশীল অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড তাকে সমর্থন করেছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রগতিশীল মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেছেন, ‘আমরা এটা চাইনি, তবে যতদিন প্রয়োজন ততদিন লড়াই চালিয়ে যাব।’

তবে সবাই কার্নির অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। আলবার্টার রক্ষণশীল মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ, যিনি ‘মাগা’ আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন, সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি কার্নিকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

কানাডার শিল্পখাতও দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন। তবু দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্নির এই সিদ্ধান্ত প্রশংসা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তিনি অর্থনৈতিক ঝুঁকি সত্ত্বেও নিজের দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি।

কার্নির ভাষায়, কোনো দেশকে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেব না।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

এআরবি

কভেন্ট্রিকে উড়িয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু আর্সেনালের

‘পুরোনো এক আলমারি’তে দিলারা জামানের সঙ্গে মৌ

ফিফার শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল, ক্রীড়া আদালতে যাবে আর্জেন্টিনা

ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার প্রতিকারে যাত্রা শুরু করল ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’

একই দিনে হলিউডের দুই ছবি স্টার সিনেপ্লেক্সে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে ফিরছে রোভার স্কাউটিং কোর্স

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় জলবায়ু অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশ করল মালয়েশিয়া

২০২৫ সালে যৌন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা

ক্রীড়া ও তারুণ্যের শক্তিতে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রযুক্তিমন্ত্রী