বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে থাকা মার্কিন নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, নাবিকদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কাউকে আবার গ্রাস করেছে মৃত্যুচিন্তা।
২০২৬ সালের মে মাসে ইউএসএস লিঙ্কনের ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করে পেন্টাগন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌসচিব হাং কাওয়ের সঙ্গে দেখা করেন সেখানে মোতায়েন অন্তত ২০০ জন সৈনিকের পরিবার। সেখানেই রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।
সান দিয়েগোর টাউন হলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মার্কিন নৌসেনা। সেখানেই হাং কাওকে একরকম ঘিরে ধরেন লিঙ্কনে মোতায়েন সৈনিকদের আত্মীয়েরা। যুক্তরাষ্ট্রের পদস্থ কর্তারা তাঁদের বোঝানোর কম চেষ্টা করেননি। তবে তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। উল্টে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তোলেন পরিবারের সদস্যদের একাংশ।
১৯৮৯ সালে মার্কিন নৌসেনায় কর্মজীবন শুরু করে পরমাণু শক্তিচালিত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। সংশ্লিষ্ট রণতরীতে মোতায়েন আছেন পাঁচ হাজারের বেশি নৌসৈনিক। গোড়ার দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে দাপিয়ে বেড়াত এই যুদ্ধজাহাজ। পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও তাকে পাঠায় আমেরিকার যুদ্ধ দফতরের সদর কার্যালয় পেন্টাগন।
গত বছরের ২১ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়াগো নৌসেনা ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। বিমানবাহী রণতরীটির লোহিত সাগরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথ সামরিক অভিযানে নামায় রাতারাতি বদলে যায় যুদ্ধজাহাজটির যাত্রাপথ।
ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরতে ইউএসএস লিঙ্কনকে ওমান সাগরের দিকে পাঠায় পেন্টাগন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে মাত্র দু’দিন বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছেন সেখানে মোতায়েন নৌসৈনিকরা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম বার গুয়ামে থামে ওই বিমানবাহী রণতরী। দ্বিতীয় বার, এ বছরের জুলাইতে ওমানের বন্দরে ২৪ ঘণ্টার জন্য ভিড়তে দেখা গিয়েছে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজকে।
২০২৫ সালে জানুয়ারিতে একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করে ওয়াশিংটনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর মেরিটাইম স্ট্র্যাটেজি’। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনার ইতিহাসে লিঙ্কনের মতো এতটা দীর্ঘ সময় আর কোনও যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রে কাটায়নি। ফলে রণতরীটিতে মোতায়েন থাকা সৈনিকদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা মানসিক বিকার দেখতে পাওয়া একেবারেই আশ্চর্যের নয়।
সূত্র: নেভি টাইমস, স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপ্স, দ্য গার্ডিয়ান, আল জ়াজ়িরা ও আনন্দবাজার ডট কম