আর্জেন্টিনায় চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মানুষের আয় তাল মিলিয়ে বাড়তে না পারায় প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের আমলে দারিদ্র্য কমানোর যে অগ্রগতি হয়েছিল, তার একটি অংশ আবারও মুছে গেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইন্ডেক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধের তুলনায় এ বছরের প্রথম ছয় মাসে দারিদ্র্যের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
চরম দারিদ্র্যের হারও ৬ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে।
শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। আর ১০ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।
ইন্ডেকের হিসাবে জানা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রায় ৩৪০ ডলার মূল্যের মৌলিক পণ্য ও পরিষেবার ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য নেই, তাদের দরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আর প্রায় ১৫০ ডলারের মৌলিক পণ্য ও পরিষেবার ব্যয়ভার বহন করার সামর্থ্য নেই, তাদের চরম দরিদ্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই পরিসংখ্যান প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুক্তবাজারপন্থী মিলেই তার প্রথম দুই বছরে মূলত দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেশের দারিদ্র্যের হার প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছিলেন।
মিলেই ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির দারিদ্র্যের হার ব্যাপকভাবে ওঠানামা করেছে। তিনি কঠোর ব্যয়সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্বল অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে দারিদ্র্যের হার ৫২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। ওই সময় মিলেই ক্ষমতায় আসার পর দেশটির মুদ্রা পেসোর মূল্য ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায়। এরপর ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দারিদ্র্যের হার কমে ২৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে।
চলতি বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে শুরু করার সঙ্গে দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। তবে পরে মূল্যস্ফীতি আবার কমে আগস্টে ১ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়, যা ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের উচ্চহারের জন্য কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন আর্জেন্টাইন ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউসিএ) সামাজিক ঋণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের গবেষক এদুয়ার্দো দোনজা।
ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মিলেইয়ের বিদেশি পণ্যের জন্য আর্জেন্টিনার বাজার আরও উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে দেশটির উৎপাদন ও খুচরা বিক্রয় খাতে বিপুলসংখ্যক চাকরি কমেছে। এর ফলে আমদানিও বেড়েছে।
মিলেই ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেকারত্বের হার বেড়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু বেকারত্ব নয়, বরং অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের উচ্চ হারও দারিদ্র্য বৃদ্ধির বড় কারণ।
দোনজা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব নয়, চাকরির অনিশ্চয়তা। কারণ পরিবারগুলো যখন আয় থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তাদের কোনো না কোনো কাজ খুঁজে নিতে হয়—যেমন বর্জ্য সংগ্রহ, রাস্তায় পণ্য বিক্রি বা রেলস্টেশনে খাবার বিক্রি।’
মিলেইর দাবি, তার ক্ষমতায় আসার পর দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আবার কমে আসার হিসাবের ভিত্তিতে তিনি ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছেন।