যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অধিকাংশ আসনের ফল স্পষ্ট হয়ে গেলেও মিসিসিপি ও আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফল জানতে আরো কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে। ভোটের ব্যবধান কম থাকা, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা এবং আলাস্কার বিশেষ ভোট পদ্ধতির কারণে ফল ঘোষণায় বিলম্ব হতে পারে।
মিসিসিপি ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শেখ টেলর বলেছেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তার ধারণা, সোমবারের আগে এই নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হবে না।
রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কোলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথ। তাদের মধ্যে কে জয়ী হবেন, তা জানতে আরো সময় লাগতে পারে।
মিসিসিপিতে ভোটের ব্যবধান কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনার কোনো ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে প্রার্থীদেরও পুনর্গণনার আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয় না। তবে নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া এবং পরবর্তী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পৌঁছানো ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ কারণে আগামী ১০ নভেম্বরের আগে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুলি রনস্কি।
তিনি বলেন, ‘দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান এতটাই সামান্য যে, বাস্তবে যে কোনো উপায়ে পাওয়া প্রতিটি ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে।’
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ১ হাজার।
আলাস্কায় ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনি লড়াইগুলোর একটি আলাস্কার সিনেট নির্বাচন। এ রাজ্যের ফল জানতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সেখানে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান এস সুলিভানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা। বিতর্কের জন্ম দেওয়া এক পরিস্থিতিতে তার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ড্যানিয়েল জে সুলিভান নামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
আলাস্কায় ফল ঘোষণায় দেরির অন্যতম কারণ রাজ্যটির র্যাংকড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ভোটাররা পছন্দের ক্রমানুসারে একাধিক প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। কোনো প্রার্থী স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর বাদ পড়া প্রার্থীর ভোটারদের পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী ব্যালট পুনরায় গণনা করা হয়।
এ ছাড়া ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট নির্বাচনি দপ্তরে পৌঁছানোর জন্য আলাস্কায় ১০ থেকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। এ কারণেও ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।
নির্বাচনের রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পেলটোলা বলেন, ‘ফলাফল দ্রুত পাওয়া যাবে না, তবে আলাস্কার মানুষ ধৈর্যশীল।’
এএম