হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয় ঘটতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমেরিকার রাজনীতিতে একটা পুরোনো নিয়ম আছে। পুরোনো সেই নিয়ম হলো, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সব সময়ই দুই বছর পর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে জনসমর্থনে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে। এমনকি জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টরাও এটি এড়াতে পারেননি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এমনকি রোনাল্ড রিগ্যানের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছিল।

২০২০ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজিত হন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের কাছে। ফলে ছাড়তে হয় হোয়াইট হাউস। তবে ২০২৪ সালে আবার বিজয়ী হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ফিরে আসেন হোয়াইট হাউসে। বাড়তে থাকে তার জনপ্রিয়তা। এছাড়া কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও পায় রিপাবলিকানরা। ফলে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা হয়ে পড়েন বিভক্ত ও লক্ষ্যহীন। সবকিছু মিলিয়ে কিছু সময়ের জন্য ট্রাম্প হয়ে উঠেছিলেন অপরাজেয়। চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সময়ের হিসাবে এখনো সাত মাস অবশিষ্ট থাকলেও এ সময়ের মধ্যেই পাল্টে গেছে সবকিছু।

ট্রাম্পের অর্জনগুলো যেন কর্পূরের মতো উবে গেছে। এর প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি জরিপে। রিয়েলক্লিয়ার পলিটিকসের জরিপ বলছে, ট্রাম্পের জনসমর্থন ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ট্রাম্পকে পছন্দ করেন না এমন উত্তরদাতার সংখ্যা ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ। রিপাবলিকানদের জন্য আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, জনমত জরিপ বলছে— তারা এখন শুধু কংগ্রেস নয়, নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে সিনেটেরও। এমন একটি পরিস্থিতি যা মাত্র কয়েক মাস আগেও অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল। হাউসের প্রায় ৩৯টি আসনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করছেন রিপাবলিকানরা। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন মাত্র তিনটি আসন। সিনেটের ক্ষেত্রে, টেক্সাস, আইওয়া এবং ওহাইওর মতো রাজ্যগুলোকে একসময় রিপাবলিকানদের ঘাঁটি বলে মনে করা হতো, তা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের জন্য।

কালশি নামে অন্যতম বৃহত্তম একটি জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস দখলের সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ। আর সিনেটের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের পক্ষে জনসমর্থন ৫১ শতাংশ, যদিও ডেমোক্র্যাটদের জনসমর্থন ৫০ শতাংশ।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধসের অন্যতম কারণ অর্থনীতি। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২৬ সাল হবে প্রবৃদ্ধির জন্য চমৎকার বছর; কিন্তু উল্টো চিত্র দেখছে জনগণ। চাকরিচ্যুতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বছরটি। গত ১২ মাসে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, পাম্পে পেট্রোলের দাম ১৯ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৩ দশমিক ৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষতি গুরুতর। মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থনের হার সর্বকালের মধ্যে সর্বনিম্ন, যা মাইনাস ৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এটি ছিল প্লাস ৬। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির জন্য রিপাবলিকানদের দায়ী করছে জনগণ, যা ২০২৪ সালের তুলনায় এক নাটকীয় পরিবর্তন।

এই ভাঙন শুধু অর্থনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন সম্পর্কিত ফাইলগুলো রিপাবলিকান দলের মূল সমর্থকদের মধ্যে একটি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ডেমোক্র্যাটদের দুর্নীতি উন্মোচনের জন্য এই ফাইলগুলো প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তিনি এর বিরোধিতা করেন। তাকে বাধ্য করতে কংগ্রেসে ৪২৭-১ ভোটে অনুমোদন এবং সিনেটে সর্বসম্মতিতে অনুমোদন জানান আইপ্রণেতারা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে, ট্রাম্প ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষর করেন। ডিসেম্বরে ফাইলগুলো প্রকাশ করা শুরু হলে জনপ্রিয়তা কমতে থাকে ট্রাম্পের।

এরপর এলো ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। গ্যাসের দাম, সরকারি শাটডাউন সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে ইচ্ছুক রিপাবলিকানদের তালিকা—যা একসময় ছিল হাতেগোনা কয়েকজন, এখন তা দুই অঙ্কের সংখ্যায় পৌঁছেছে। এক দশক ধরে, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে মরিয়া ছিল। তবে সেই হিসাব এখন বদলে গেছে।

ট্রাম্পের এমন টালমাটাল অবস্থায় দেশজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালো ফল করছেন। ২০২৫ সালজুড়ে বিশেষ নির্বাচনগুলোতে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো ট্রাম্পের পরাজয়, ডেমোক্র্যাটদের জয় নয়। এটি ট্রাম্পের শাসনামলে রিপাবলিকানদের পতন।

ভোটাররা মূলত ট্রাম্পকে শাস্তি দিচ্ছেন। তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, অভিবাসন আইন প্রয়োগের কৌশল এবং বৈদেশিক সম্পৃক্ততাকে প্রত্যাখ্যান করছেন তারা । মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্পের দিক থেকে। কারণ তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এক, বাস্তবে করছেন ভিন্ন কিছু।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা

চুক্তি না হলে ইরান ধ্বংস করে তেল সম্পদ দখলের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাতে হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ ডব্লিউএইচও প্রধানের

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি ইসরাইলের, যুক্তরাষ্ট্রের সংকেতের অপেক্ষা

যেভাবে নিখোঁজ পাইলটকে ইরান থেকে উদ্ধার করে আনল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে অর্থনীতিতে প্রভাবের শঙ্কা ৫৬ শতাংশ মার্কিনির

যেভাবে ভূপাতিত মার্কিন জঙ্গিবিমান

মার্কিন ক্রু সদস্য আটক হবে ইরানের জন্য কৌশলগত ‘বড় পুরস্কার’

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের