ইরান নীতি নিয়ে নিজ দলেই তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিকের পক্ষ থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভির বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উভয় প্রধান রাজনৈতিক দলেই এ বিষয়ে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তার মতে, ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যপন্থি ও ডানঘেঁষা অংশগুলো একই ধরনের সমালোচনা করছে—যেখানে বলা হচ্ছে, ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল হচ্ছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ঘরানার একটি অংশও এই নীতির বিরোধিতা করছে।
মোরতাজাভি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তার নীতিই এখন সেই অবস্থানের বিপরীত দিকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টই মধ্যপ্রাচ্যের অসীম যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—ট্রাম্পও দুবার সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি এগুলোকে ‘বোকা যুদ্ধ’, ‘অর্থহীন যুদ্ধ’ বলেছিলেন এবং নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।”
তার মতে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত ইরান আক্রমণ পরিকল্পনা আগের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই গ্রহণ করেননি, কারণ এর পরিণতি সম্পর্কে সবাই সচেতন ছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানকে সহজ লক্ষ্য ভাবা ভুল হবে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তার ভাষায়, ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট এখন যুদ্ধের প্রেসিডেন্টে পরিণত হয়েছেন, যিনি একটি জটিল পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন, যেখানে নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং সমালোচনা আসছে নিজের দল ও বিরোধী উভয় দিক থেকেই।’
এসআর