হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। আদালতটির কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বিচারক ও প্রসিকিউটর নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা এলো। পিল্লাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিযুক্ত করা জাতিসংঘের একটি কমিশনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে আইসিসি বলেছে, এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। আদালত সতর্ক করে বলেছে, ইতিহাস এই মুহূর্তের বিচার করবে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। তার ভাষায়, আদালতটি একটি ‘বেপরোয়া প্রতিষ্ঠান’। এর মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আদালটির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধিতা আরো জোরালো হলো। রুবিও বলেন, আমরা এই বেপরোয়া আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করব, এর অর্থের উৎস বন্ধ করে দেব এবং আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণ এই ভুয়া আইসিসির এখতিয়ারের অধীন নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, আইসিসি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলেরই গভীর আপত্তি রয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার উদ্দেশ্যে আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বিশেষ করে যেসব অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অন্যথায় নাও করতে পারে। তবে রুবিওর দাবি, আদালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো দৃঢ়তা একমাত্র ট্রাম্পই দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দলই একমত। কিন্তু এই হুমকি চিরতরে শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মতো দৃঢ়তা কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরই রয়েছে। তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হয় আইসিসি তাদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকেই শেষ করে দেব। আইসিসির বিরুদ্ধে এই প্রচারে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদেরও পাশে চায় বলে জানিয়েছেন রুবিও। এসব মিত্রের মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশ ও জাপান রয়েছে। রুবিও বলেন, আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা—যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীল—এই বেপরোয়া আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনবে। তিনি আরো বলেন, তারা তা না করলে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসিকে ধাপে ধাপে ভেঙে দেওয়ার অভিযান চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি শেষ হয়।’

এক বিবৃতিতে আইসিসি বলেছে, নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য আদালতের কর্মীদের ভয় দেখানো এবং এর কার্যক্রম ব্যাহত করা। তবে এসব পদক্ষেপে আদালত তার দায়িত্ব পালনে পিছপা হবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা ‘আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থার মূল ভিত্তির ওপর আঘাত। এটি সেই মৌলিক নীতিকেই আঘাত করে, যার অর্থ—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বিবৃতিতে বলেন, গুরুতর অপরাধের অগণিত ভুক্তভোগীর স্বার্থে আদালত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করে যাবে। এ ক্ষেত্রে আদালত কেবল আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই কাজ করবে।

আদালতটি তার ১২৫টি সদস্যরাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আদালতের ভবিষ্যৎ এখন সেই রাষ্ট্রগুলোর হাতেও রয়েছে, যারা এটি প্রতিষ্ঠা করেছে।

আইসিসি আরো বলেছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বিশেষ করে গণহারে নৃশংসতার শিকার ব্যক্তিরা জানতে চাইবে—তাদের সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান যখন আক্রান্ত হয়েছিল, তখন আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় আইসিসির যেকোনো সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি আদালটির সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ করার জন্য মার্কিন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এআরবি

দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও হাঁটছেন ক্রিস্টা পাইক

মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ আট কোম্পানির ওপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা নয়: ট্রাম্প

লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’

প্রচারণার পোস্টার ঠিক করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার মার্কিন কংগ্রেস প্রার্থী

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার প্রমাণ সংরক্ষণে আদালতের নির্দেশ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ

ওবামার সঙ্গে নির্বাচনি সমাবেশ, তীব্র সমালোচনার মুখে এল-সাইদ