যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আদম হামাওয়ি। রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেকে পরাজিত করে অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তার জয় ঘোষণা করেছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অবসর নিতে যাওয়া কংগ্রেস সদস্য বনি ওয়াটসন কোলম্যানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
মিসরে জন্ম নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী হামাওয়ি শিশুকালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি পেশায় প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক শল্যচিকিৎসক এবং অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা চিকিৎসক। ইরাক যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর হয়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর বর্তমান মার্কিন সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হামাওয়ি। এ ঘটনার জন্য তার চিকিৎসাসেবার প্রশংসা করা হয়।
সামরিক দায়িত্ব শেষে বিভিন্ন দেশে মানবিক চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হন হামাওয়ি। বসনিয়া, সুদান, লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, তুরস্কসহ একাধিক দেশে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে গাজায় তার চিকিৎসা কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ে ১৯ সদস্যের একটি চিকিৎসক দলের সঙ্গে গাজায় যান তিনি। সেখানে তিন সপ্তাহে প্রায় ১২০টি অস্ত্রোপচার করেন, যার অর্ধেকের বেশি ছিল শিশুদের ওপর। ২০২৫ সালেও দ্বিতীয়বারের মতো গাজায় চিকিৎসাসেবা দিতে যান তিনি।
গাজায় চিকিৎসাসেবার অভিজ্ঞতা হামাওয়ির রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী প্রচারে বড় প্রভাব ফেলে। তিনি ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানান। নির্বাচনী প্রচারে সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণ বাতিল এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন হামাওয়ি। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি। পরে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলের মুখোমুখি হন। তার প্রচারে সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমর্থনও ছিল।
হামাওয়ির এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি কংগ্রেসে দায়িত্ব নিলে নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য হবেন। একই সঙ্গে মিসরীয় বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে প্রবেশের নজিরও গড়বেন তিনি।