যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতাকারী ‘নো কিংস’ নেটওয়ার্কের উদ্যোগে দেশটির বিভিন্ন শহর ও এলাকায় সমাবেশ হয়েছে।
গতকাল শনিবারের এসব কর্মসূচি থেকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের দাবি, যোগ্য ভোটাররা যেন ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি।
‘নো কিংস’ নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩ হাজারের বেশি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে। এবারের কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নো কিংস: আগাম ভোট দিন’। আয়োজকেরা একে কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে নয়, বরং দলনিরপেক্ষ ভোটার-অংশগ্রহণের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বিরুদ্ধে প্রায় দুই বছর ধরে চলা ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ও সমাবেশের ধারাবাহিকতায় এসব কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকেরা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি দলনিরপেক্ষভাবে ভোটারদের অংশগ্রহণের দিন। আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করছি, যাতে তারা আগাম ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক যোগ্য ভোটার যেন ভোট দেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করছি।’
আয়োজকদের আশা, আগাম ভোটের প্রচার নির্বাচনের দিন কোনো অনিয়মের আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করবে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে কয়েক শ মানুষকে সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যায়। শীতল আবহাওয়া উপেক্ষা করে টুপি ও গরম পোশাক পরা অনেকে সেখানে গানের তালে নাচেন। একটি ব্যান্ড তাদের গান শুনিয়ে আনন্দ দেয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আগাম ভোট দিন’ এবং ‘আমার ভোটে হাত দেবেন না’।
আটলান্টার এক সমাবেশে শহরের কাউন্সিল সদস্য মাইকেল জুলিয়ান বন্ড আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগেই অন্যদের ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে বলেন।
তিনি সমবেত লোকজনকে বলেন, ‘সংবিধান আপনাদের একটি ক্ষমতা দিয়েছে, তাই না? সেটি হলো ভোট দেওয়ার ক্ষমতা। আপনারা কি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবেন?’
এরপর তিনি বলেন, ‘সুপারম্যানকে নিজের ক্ষমতা ছেড়ে দিতে দেখেন না। ব্ল্যাক প্যান্থারকেও তা করতে দেখেন না। ওয়ান্ডার ওম্যানও তার জাদুর ফাঁস ছেড়ে দেন না। তাহলে আপনারা কেন ভোট দেওয়ার অধিকার, ক্ষমতা ও দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন? সুপারহিরো হোন, নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করুন। ভোটকেন্দ্রে যান এবং ভোট দিন।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কারণে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় আদালতের কাছে এমন ভোটারদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা বন্ধের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে, যাদের যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার ‘সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব ব্যালট গণনা বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও সতর্ক করে বলেছে, সন্দেহভাজন অ-মার্কিন নাগরিক ভোটারদের জমা দেওয়া ব্যালট গ্রহণ ও গণনার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কর্মকর্তারা ফৌজদারি তদন্ত এবং সম্ভাব্য বিচারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
একই দিন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাদিয়া, রোড আইল্যান্ডের সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস এবং ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চকে চিঠি লেখেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিচার বিভাগ যেন ব্যালট বা নির্বাচনী অন্যান্য উপকরণ জব্দ না করে, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দাবি করেন তারা।
এএম