যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের সাফল্য বা ‘ব্লু ওয়েভ’-এর আশায় বুক বাঁধছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপের ফল তাদের সেই প্রত্যাশা আরো বাড়িয়েছে। এমনকি কয়েক মাস আগেও যেসব ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রায় অকল্পনীয় মনে হতো, সেসব অঙ্গরাজ্যেও এখন জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন দলটির নেতারা।
তবে প্রত্যাশার পারদ এতটাই চড়েছে যে নির্বাচনের দিন ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের সাফল্য না পেলে দলটির ভেতরে হতাশা এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে নিতে না পারলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য তা প্রত্যাশার তুলনায় কম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড অ্যাক্সেলরড সোমবার কেসি হান্টের উপস্থাপনায় ‘দ্য অ্যারেনা’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমার মনে হয়, যথেষ্টসংখ্যক অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা এমন অবস্থানে আছে, যেখান থেকে তারা খুব ভালো ফল করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারলেও আমি অবাক হব না।’
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সিনেটে ৫৩টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি অ্যাক্সেলরড। তার ভাষায়, ‘ঢেউ কতটা বড় হবে, তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’ অর্থাৎ, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে কোনো না কোনো মাত্রায় জনসমর্থনের ঢেউ আসবে—এমন প্রত্যাশা ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে।
পরাজয়কেও যখন জয় হিসেবে দেখানো হয়
২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের সাংবিধানিক সুরক্ষা বাতিল করার পর ডেমোক্র্যাটরা তুলনামূলক ভালো ফলের আশা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলটি প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র ৯টি আসন হারায় এবং পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে চলে যায়। তার পরও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটরা ফলটিকে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো হিসেবে তুলে ধরেন।
নির্বাচনের পরদিন বাইডেন বলেছিলেন, ‘সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বিশাল লাল ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা ঘটেনি।’ তিনি ফলাফলকে ‘গণতন্ত্রের জন্য ভালো দিন’ বলেও উল্লেখ করেন। যদিও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে তার আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ কঠিন হয়ে পড়ে।
এর আগে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের ৪১টি আসন হারিয়ে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারাকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তার দাবি ছিল, রিপাবলিকানরা ঐতিহাসিক নজিরের তুলনায় অনেক ভালো করেছে।
এবারের নির্বাচনে যা-ই ঘটুক, ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক, তিনি ফলাফলকে নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা করে কোনো না কোনোভাবে জয় দাবি করার চেষ্টা করতে পারেন।
জনমত জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
এবারের নির্বাচন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশাবাদ বাড়ছে। এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে নভেম্বরে কোন দলকে ভোট দেবেন—এ প্রশ্নে রিপাবলিকানদের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।
সিনেট নির্বাচনেও আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস ও টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে রয়েছেন।
মিশিগান ও জর্জিয়ার মতো রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি। এসব রাজ্যে নিজেদের হাতে থাকা আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী গতি ও জনসমর্থনের ওপর ভরসা করছেন।
নির্বাচনের পর জনমত জরিপের যথার্থতা নিয়ে যে পর্যালোচনা হবে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে—এবার জরিপকারীরা ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি উদ্দীপনা যথাযথভাবে পরিমাপ করতে পেরেছিলেন, নাকি সেই উদ্দীপনাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইতিহাস কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদের আসন হারায়। গত ১০০ বছরে মাত্র দুবার প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারায়নি।
এর একটি ঘটনা ২০০২ সালে, প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর আগে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে রিপাবলিকানরা সুবিধা পেয়েছিল।
অন্য ঘটনাটি ১৯৯৮ সালে, যখন ডটকম ব্যবসার প্রসারে অর্থনীতি চাঙা ছিল এবং প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিশংসন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছিল।
সাধারণত কতটি আসন হারায় ক্ষমতাসীন দল?
এর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। কয়েকটি আসন হারালেও রাজনৈতিকভাবে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। ২০২২ সালে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের ৯টি আসন হারিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এটি ছিল স্পষ্ট পরাজয়, যদিও ওই বছর রিপাবলিকানদের বড় ব্যবধানে জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
তবে কোনো কোনো নির্বাচনে আসনের বড় ধরনের রদবদল ঘটে। ১৯৯৪ সালে ক্লিনটনের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি আসন হারায়। ওই ঘটনা ‘রিপাবলিকান বিপ্লব’ নামে পরিচিত।
২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে ‘টি পার্টি বিপ্লব’-এর সময় ডেমোক্র্যাটরা ৬৩টি আসন হারায়। ওবামা ওই ফলকে ‘প্রচণ্ড আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। দুই নির্বাচনেই ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালে রিপাবলিকানরা ৪১টি আসন হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়।
সিনেটের আসনবিন্যাস রিপাবলিকানদের অনুকূলে
প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নির্বাচনী মানচিত্র রিপাবলিকানদের জন্য বেশি সুবিধাজনক। ২০১৮ সালে সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর হওয়ায় প্রতি নির্বাচনে সাধারণত এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়।
২০২৬ সালে সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের তালিকায় রয়েছে ১০টি। সিনেটে ৫১টি আসন পেতে ডেমোক্র্যাটদের এই ১০টির মধ্যে আটটিতে জয় পেতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই আসনগুলোর মধ্যে জর্জিয়া, মিশিগান ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের আসন বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে। অন্যদিকে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও টেক্সাসের আসন রিপাবলিকানদের হাতে।
প্রতিনিধি পরিষদে ঝুঁকিতে বেশি রিপাবলিকান আসন
এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের আসন পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকার সীমানা দলীয় সুবিধা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের সংখ্যা কমেছে।
নির্দলীয় কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের হিসাবে, প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র ২১টি আসনকে ‘টস-আপ’ বা অনিশ্চিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি রিপাবলিকানদের এবং ছয়টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে।
কুকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আরও ১০টি আসনে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন—এসব আসন ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিশ্চিত, সম্ভাবনাময় অথবা এগিয়ে থাকার অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া একজন আইনপ্রণেতা রিপাবলিকান দল ছেড়ে স্বতন্ত্র হয়েছেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা আটটি আসনে রিপাবলিকানরা এগিয়ে রয়েছেন বা জয়ের সম্ভাবনায় রয়েছেন।
এর অর্থ, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের হয়তো অনিশ্চিত আসনগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বা কয়েকটিতে জয় পেলেই চলবে। তবে এসব আসনের বড় অংশে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে তারা দাবি করতে পারবে, ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশিত নির্বাচনী ঢেউ বাস্তবে আসেনি।
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের ফল এক রকম হয় না
দুই কক্ষের নির্বাচনী ফল সব সময় একই দিকে যায় না। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং বাইডেনের মেয়াদে ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে এত আসন হারিয়েছিল যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। অথচ দুই নির্বাচনেই সিনেটে দলটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়।
২০১৮ সালে রিপাবলিকানরা সিনেটে চারটি আসন এবং ডেমোক্র্যাটরা দুটি আসন জেতে। ফলে ট্রাম্পের দল সিনেটে দুই আসন বাড়ায়, যদিও তখন তার জনসমর্থনের হার বেশ কম ছিল। ২০২২ সালে বাইডেনের বিরুদ্ধে জনমত থাকা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে একটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়।
একই নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বদলানোর নজির কম
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়মিত বিরতিতে বদলেছে। ফলে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই কোনো না কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তবে গত ১০০ বছরে মাত্র দুবার একই নির্বাচনী চক্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বদলেছে। ১৯৯৪ সালের রিপাবলিকান বিপ্লব এবং ২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী ঢেউ ছিল সেই দুটি ঘটনা।
লাল অঙ্গরাজ্যেও কি জিততে পারেন ডেমোক্র্যাটরা?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও তার প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তাই এমন কিছু অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগে তাদের জয় কঠিন বলে মনে করা হতো।
তবে প্রতিটি নির্বাচনী লড়াইয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার জনপ্রিয় সাবেক গভর্নর। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ ইতিমধ্যে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি তুলনামূলকভাবে অজনপ্রিয়।
কানসাসে প্রায় ১০০ বছর ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। সেখানে ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মধ্যপন্থী একজন যাজককে ঘিরে দলটি আশাবাদী।
কানসাস ও টেক্সাসেও কি সত্যিই ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা আছে?
দুই অঙ্গরাজ্যেই জনমত জরিপে সিনেট ও গভর্নর নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। টেক্সাসের একটি সিনেট আসন নিজেদের দখলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা বহুদিন ধরেই আশাবাদ দেখিয়ে আসছেন। কিন্তু ১৯৮৮ সালের পর সেখানে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পাননি। ওই বছরই জন্মগ্রহণ করেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকো।
কানসাসেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অজনপ্রিয় রিপাবলিকান প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু ভোটের দিন তিনি হেরে যান।
তাই এসব অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
যদি সত্যিই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় ধরনের নির্বাচনী ঢেউ আসে, তাহলে আরো বেশি রিপাবলিকান-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠতে পারে। এর মধ্যে সাউথ ক্যারোলাইনাও রয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে হারানোর চেষ্টা করছেন। চলতি বছর তার ভাই লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ওই আসনে ডারলিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্রাম্পও অ্যানি অ্যান্ড্রুজকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে কতটি আসন প্রয়োজন?
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বর্তমানে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুব কম। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি কক্ষে নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিহাসের সবচেয়ে সংকীর্ণ। নির্বাচনের আগে পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য ২১৮ জন। ৪৩৫ সদস্যের পরিষদে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ন্যূনতম সীমা।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্বতন্ত্র সদস্য কেভিন কাইলি প্রশাসনিক বিষয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্য ২১৪ জন এবং দুই দলের একটি করে আসন শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা কয়েকটি আসন বাড়াতে না পারলে তা দলটির জন্য বড় হতাশার কারণ হবে।
সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকান সদস্য ৫৩ জন। ডেমোক্র্যাট ৪৫ জন এবং তাদের সঙ্গে কার্যত যুক্ত দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর রয়েছেন। ১০০ সদস্যের সিনেটে নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের ৫১টি আসন প্রয়োজন। কারণ সিনেটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সমান ভোট হলে সিদ্ধান্তমূলক ভোট দিতে পারেন।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের কী হবে?
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। ইতিহাসে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কিছু আসন হারায়—এ কথা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দ্রুত ও ব্যাপকভাবে নিজের নীতিগুলো বাস্তবায়ন করছেন। তার প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে এমন ধারণা পাওয়া যায়, মেয়াদের দ্বিতীয়ার্ধে কংগ্রেসের বিরোধিতা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি আগেভাগে যতটা সম্ভব কাজ এগিয়ে নিতে চাইছেন।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি অনেক বাড়বে। তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা, তথ্য প্রকাশ্যে আনা এবং জনমত প্রভাবিত করার সুযোগ পাবে তারা।
বাজেটের ওপরও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। কংগ্রেস অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরও ট্রাম্প সেই অর্থ ব্যয় না করার নজির দেখিয়েছেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ব্যয়সংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে ট্রাম্পের অর্থ ব্যয়ের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্ভব হবে। শুধু একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে এ ক্ষমতা তুলনামূলক সীমিত থাকবে।
তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকবে। কোনো বাস্তবসম্মত নির্বাচনী পরিস্থিতিতেই কোনো দল ফিলিবাস্টার অতিক্রম করার মতো সুপারমেজরিটি পাবে না। ফলে ব্যয়সংক্রান্ত বিল পাস করতে শেষ পর্যন্ত দুই দলের সমর্থন এবং হোয়াইট হাউসের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে।
রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প সরকার পরিচালনার অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যেতে দিয়েছেন। অর্থাৎ, নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তিনি অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থা এড়াতে সব সময় আগ্রহী ছিলেন না।
ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোকে ভবিষ্যতের বাজেটসংক্রান্ত বিরোধ থেকে সুরক্ষিত রাখতেও রিপাবলিকানরা পদক্ষেপ নিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে, চলতি বছরের শুরুতে তারা ফিলিবাস্টার এড়িয়ে বাজেট পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাকে (আইসিই) ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য কয়েক বছর মেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করেছেন। তারা জানতেন, ইতিহাসের নজির অনুযায়ী মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের নির্বাচনী ঢেউ আসতে পারে।