দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ভেনেজুয়েলার অর্থ ছাড় করতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
কারাকাস থেকে এএফপি জানায়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের মালিকানাধীন সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই অর্থ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হবে। তবে ঠিক কত অর্থ ছাড় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। ২০১৮ সালে বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যার মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞাও ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন হিসাবে ভেনেজুয়েলার বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বলে ২০২২ সালে দাবি করেছিলেন মাদুরো।
মাদুরোকে গত ৩ জানুয়ারি এক মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত করার পর রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একাধিক সমঝোতা হয়েছে। রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যের ভিত্তিতে যোগাযোগের একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠেছে।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে রদ্রিগেজ সরকারের পরিণতিও মাদুরোর মতো হতে পারে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়া। ট্রাম্প ইতোমধ্যে রদ্রিগেজের নেতৃত্বকে ‘খুবই শক্তিশালী’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল থেকে একটি অংশ পাচ্ছে। যদিও রদ্রিগেজ জোর দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে নেই।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিকে সতর্ক করে জানান, ট্রাম্পের চাহিদা পূরণ না হলে রদ্রিগেজের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল মজুতের অধিকারী ভেনেজুয়েলা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী ছিল। ২০০৭ সাল পর্যন্ত একাধিক মার্কিন তেল কোম্পানি সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করত।
সম্প্রতি সম্পর্ক উন্নয়নের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, সাবেক কূটনীতিক লরা এফ ডোগু ভেনেজুয়েলায় নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি ২০১৯ সালে ছিন্ন হওয়া দুই দেশের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্টের মেয়াদের অর্ধেকের আগে পদ শূন্য হলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। তবে মাদুরোর ছেলে ও সংসদ সদস্য নিকোলাস মাদুরো গেররা বলেছেন, তার বাবাকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তার ভাষায়, ‘নির্বাচন এখন আলোচনার বিষয় নয়।’
এসআর