হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে নতুন কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের

দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে ৬৬০ কোটি ডলারের একটি নতুন জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানাধীন এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ২৯০ কোটি ডলার এবং প্রতিষ্ঠানটি ৩৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।

মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডের স্প্যারোজ পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নতুন এই জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে এমন বড় নতুন জাহাজ নির্মাণকেন্দ্র আর তৈরি হয়নি।

‘আর্সেনাল-টু’ নামের এই কারখানায় ভার্জিনিয়া শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি করা হবে। এর মধ্যে টর্পেডো টিউবও থাকবে। ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিনের যন্ত্রাংশসহ আরো বড় অংশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যান্ডুরিল জানিয়েছে, নতুন কারখানাটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হবে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২০ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে কারখানাটি গড়ে তুলবে। এখানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মোট ১৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হতে পারে বলে মেরিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানো এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণের নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

এই প্রকল্পের মালিক অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমর্থক ও বড় রিপাবলিকান দাতা। ২০১৭ সাল থেকে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য প্রায় ৫৯ লাখ ডলার দিয়েছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভবিষ্যতের যুদ্ধপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা পেন্টাগনের একটি প্রকল্পে লাকিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প লাকিকে তার ‘বন্ধু’ এবং ‘অসাধারণ প্রতিভাবান’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে লাকি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যান্ডুরিল মূলত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক যান তৈরি করে। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি এর আগে মানবচালিত সাবমেরিন নির্মাণে কাজ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি সামুদ্রিক প্রযুক্তি তুলনামূলক ছোট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকেন্দ্রিক।

নতুন প্রকল্পে শুরুতে টর্পেডো টিউবের মতো ছোট সাবমেরিনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। পরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে সাবমেরিনের হাল ও পেছনের অংশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অ্যান্ডুরিল পুরো সাবমেরিন নির্মাণ করবে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জাহাজ নির্মাতাদের সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।

অ্যান্ডুরিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান কৌশল কর্মকর্তা ক্রিস ব্রোজ বলেন, প্রচলিত জাহাজ নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশ কিছুটা ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যখন জাহাজ নির্মাণে সংকট মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির সহায়তা চায়, তখন শুরুতে তারা কিছুটা সংশয়ী ছিল। পরে তারা এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মেরিল্যান্ডের শিল্পাঞ্চল স্প্যারোজ পয়েন্টের রয়েছে দীর্ঘ জাহাজ নির্মাণের ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেখানে বেথলেহেম ফেয়ারফিল্ড শিপইয়ার্ড ছিল। ওই কারখানায় যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত লিবার্টি শ্রেণির জাহাজ নির্মাণ করা হতো।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প উৎপাদনের বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ায় বাল্টিমোর অঞ্চলের শিল্প খাতও সংকুচিত হয়। ওই এলাকায় থাকা ইস্পাত কারখানাটি ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক হাজার শ্রমিক চাকরি হারান।

এখন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই শিল্পাঞ্চলে আবার বড় আকারের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মেরিল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যান্ডুরিলের বিনিয়োগটি রাজ্যটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিনিয়োগগুলোর একটি হবে।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের যন্ত্রাংশ তৈরিতে অ্যান্ডুরিলের সরাসরি অভিজ্ঞতা নেই। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলছেন, ছোট স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক যান তৈরির তুলনায় মানবচালিত পারমাণবিক সাবমেরিনের যন্ত্রাংশ তৈরি অনেক বেশি জটিল ও কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জানিয়েছে, অ্যান্ডুরিলকে দেওয়া ২৯০ কোটি ডলারের চুক্তিটি উৎপাদনের অগ্রগতি ও নির্ধারিত ফলাফল অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের ঝুঁকির বড় অংশ প্রতিষ্ঠানটির ওপরই থাকবে।

ট্রাম্প অনুষ্ঠানে আরো বলেন, নতুন জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে মার্কিন করদাতারা ৪০ শতাংশ মালিকানা পাবেন। তবে এই মালিকানা কীভাবে কার্যকর হবে বা সরকার প্রকল্পটির কত শতাংশ শেয়ার পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

অ্যান্ডুরিলের নতুন কারখানাটি চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাল্টিমোর অঞ্চলের শিল্প ও কর্মসংস্থানেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রচলিত সাবমেরিন নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও উৎপাদন মান নিয়েও নজর থাকবে।

বিদেশিদের কাছে জমি বিক্রির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় বিক্ষোভ

মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ও হারিকেনের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতির মুখে যুক্তরাষ্ট্র, ৮১ যুদ্ধবিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার ধ্বংস

ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে চাপে ট্রাম্প

নারীবিদ্বেষী আচরণে দায়মুক্তি পাওয়ার সংস্কৃতিকে উসকে দিচ্ছেন ট্রাম্প

লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির জন্য তেল ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো কতটুকু দায়ী

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করল ট্রাম্প প্রশাসন

সরকারি টাকায় নিজের বিজ্ঞাপন বন্ধ করলেন ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরীক্ষা, কংগ্রেসের দিকে নজর ডেমোক্র্যাটদের