মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ড’ চালু করেছেন। গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য নিয়ে বোর্ডটি গঠন করা হলেও, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এর ভূমিকা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবেলায় আরো বিস্তৃত হতে পারে। খবর রয়টার্সের।
ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, বোর্ডটি সম্পূর্ণভাবে গঠিত হলে এটি যা চাইবে তাই করতে পারবে এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবে। তাঁর ভাষায়, জাতিসংঘের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
শান্তি বোর্ডের সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্প নিজেই। তিনি জানান, গাজার অস্থির যুদ্ধবিরতির বাইরে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটও বোর্ডের আলোচনায় আসবে। এ কারণে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা দুর্বল করতে পারে।
তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মতো কয়েকটি আঞ্চলিক ও উদীয়মান শক্তি বোর্ডে যোগ দিলেও, বড় বৈশ্বিক শক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা মিত্ররা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, বোর্ডের স্থায়ী সদস্যদের প্রত্যেককে ১ বিলিয়ন ডলার করে তহবিল দিতে হবে। তবে রয়টার্স জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনো বড় বিশ্ব শক্তি, ইসরায়েল বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য গাজায় শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলেও এটি বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত মোকাবেলায় একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অন্য স্থায়ী সদস্যরা এখনো বোর্ডে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে জব্দ করা সম্পদ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে মস্কোর।
ফ্রান্স স্পষ্টভাবে বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ব্রিটেন বলেছে, তারা আপাতত যুক্ত হচ্ছে না। চীনও এখনো অবস্থান জানায়নি।
ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবে এই বোর্ড গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। জাতিসংঘের মুখপাত্র রোলান্ডো গোমেজ বলেন, বোর্ডের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা ওই প্রস্তাবের সীমার মধ্যেই থাকবে।
বোর্ডে যোগ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংখ্যা কম। তবে ইসরায়েল, আর্জেন্টিনা ও হাঙ্গেরি—যাদের নেতৃত্ব ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র—বোর্ডে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
শান্তি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কো রুবিও, গাজা আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।