ইরান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগে ন্যাটোর কয়েকটি মিত্র দেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে এ ধরনের প্রস্তাব ও কৌশলগত রূপরেখা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে এক মার্কিন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান সংকটে অনেক ন্যাটো সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সহায়তা দেয়নি—কিছু দেশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি এবং কেউ কেউ আকাশসীমাও বন্ধ রেখেছে। এতে করে ‘অ্যাকসেস, বেসিং অ্যান্ড ওভারফ্লাইট’ (ABO) সুবিধা না পাওয়ায় ওয়াশিংটন মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
পেন্টাগনের ওই ই-মেইলে বলা হয়েছে, এসব সুবিধা ন্যাটোর জন্য একটি মৌলিক প্রত্যাশা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সেখানে এমনকি কিছু ‘অসহযোগী’ দেশকে জোটের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই।
ই-মেইলে স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের মতো সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতি মার্কিন নীতিগত অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় আনা হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তার দেশ জোটের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো অভ্যন্তরীণ ই-মেইলকে নীতি নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে দেখে না।
অন্যদিকে, পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জানান, প্রেসিডেন্টের অবস্থান অনুযায়ী ন্যাটোকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল জোটে রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন বাস্তবসম্মত বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক ন্যাটোর ভেতরে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক সহযোগিতা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে এই আলোচনা জোটের ৭৬ বছরের ইতিহাসে নতুন ধরনের চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
এসআর