ভেনেজুয়েলার রাজনীতি ও দেশটির বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গত প্রায় তিন দশক ধরে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি তেলশিল্পে ‘সম্পদ জাতীয়তাবাদ’ বা রিসোর্স ন্যাশনালিজমের নীতি অনুসরণ করে এসেছে। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে হওয়া একটি বড় তেল চুক্তি সেই পরিবর্তনকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের ওপর আগামী ১০০ বছর পর্যন্ত মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে চুক্তিটি শুধু জ্বালানি খাতের বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়; ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
মাদুরোর পতনের পর তেলনীতিতে বড় পরিবর্তন
২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর এক সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
মাদুরো সরকারের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেলনীতির পরিবর্তে রদ্রিগেজ প্রশাসন তেলশিল্পে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলতে শুরু করে। গত আট মাসে দেশটির হাইড্রোকার্বন আইন সংস্কার, জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে উদারীকরণ এবং বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ
চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ভেনেজুয়েলার ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থায় চলে যাবে। এই মজুদ দেশটির ১৭টি বড় তেলক্ষেত্রে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রের কয়েকটি আগে চীনা ও রুশ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনা করবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স (নাবেপ) । প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল (ওএসসি)। মার্কিন সরকারের এই সংস্থা নাবেপ-এর ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব বিনামূল্যে পাবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নাবেপ নিয়ন্ত্রিত তেলক্ষেত্রগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার অধিকার পাবে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ ওই তেলের ওপর ভেনেজুয়েলার কর আরোপের সুযোগ থাকবে না বলে মার্কিন সরকারের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভেনেজুয়েলা প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
অন্যদিকে বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ওএসসি-এর ‘ফার্স্ট রাইট অব রিফিউজাল’ বা অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়াধিকার থাকবে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ওই তেল বিক্রির ওপর ভেটোও দিতে পারবে। এর ফলে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির তেল যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের প্রয়োজন মেটাতেও ব্যবহার করা যাবে।
২০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের দাবি
মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ভেনেজুয়েলা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার কর ও রয়্যালটি পেতে পারে। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা ও বিবেচনাধিকার থাকায় প্রকৃতপক্ষে ভেনেজুয়েলার রাজস্ব কত হবে, তা নির্ভুলভাবে হিসাব করা কঠিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির মেয়াদ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য। যুক্তরাষ্ট্র ১০০ বছরের নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, নাবেপকে দেওয়া অনুমতির মেয়াদ হবে ২৫ বছর। এমন ধরনের চুক্তি দেশটির হাইড্রোকার্বন আইনে গত প্রায় ৫০ বছর দেখা যায়নি।
বাস্তবায়নে বড় বাধা
বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও চুক্তিটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, আইনি ও অর্থনৈতিক বেশ কিছু বাধা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভেনেজুয়েলার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি কাঠামো নিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে।
এখন পর্যন্ত বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভ্রন ছাড়া অন্যদের বড় ধরনের আগ্রহ দেখা যায়নি। এক্সনমবিল ও কোনোকোফিলিপ্স-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগে এগিয়ে না এলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
আরেকটি ঝুঁকি হলো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে বর্তমান চুক্তিকে অসাংবিধানিক বা অবৈধ দাবি করে তা বাতিল কিংবা পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করতে পারে।
একইভাবে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি ভবিষ্যতে আবার যথেষ্ট রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করলে মার্কিন প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চুক্তির শর্ত প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
নাবেপ প্রধানকে ঘিরেও প্রশ্ন
চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত নাবেপ-এর পরিচালনায় আলেহান্দ্রো বেতানকোর্টের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে একাধিক মামলা ও অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ও রয়েছে। ফলে বেতানকোর্টের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানো কতটা সম্ভব?
চুক্তি ঘোষণার পর মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বহু বছর ধরে অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগতে থাকা দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এসবের সবটাই এখনো নিশ্চিত নয়।
শুধু তেল নয়, বৃহত্তর মার্কিন কৌশল
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ‘হেমিস্ফেরিক’ বা পশ্চিম গোলার্ধকেন্দ্রিক কৌশলের অংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতির নথিগুলোতে পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বিপুল প্রমাণিত তেল মজুদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নৈকট্যও এর গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কোম্পানিকে ভেনেজুয়েলার তেল খাত থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্তও এই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রভাব ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন—ভেনেজুয়েলার তেলচুক্তি সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
নির্বাচনের আগে তেল, নাকি তেলের পর নির্বাচন?
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় তিন ধাপের একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে—স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক সংস্কার। চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু তেল চুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি দেখাচ্ছে, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকারের তালিকায় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আগে তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশটির বিরোধী নেতাদের একটি অংশ মনে করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা এগিয়েছে ভিন্ন গতিতে। প্রথমে তেলসম্পদের ওপর প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পর রাজনৈতিক রূপান্তরের দিকে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তেল চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের তিন ধাপের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে ভবিষ্যৎ কোনো সরকার চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ডেলসি রদ্রিগেজকে ঘিরে বিরোধীদের উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিকদের বড় অংশ মার্কিন অংশগ্রহণকে অস্বীকার করছে না। বরং দেশটির তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে মার্কিন বিনিয়োগকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। তবে সমস্যা হচ্ছে—চুক্তিটি স্বাক্ষর করছেন এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার, যার গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মাচাদো সরাসরি বলেননি যে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার চুক্তিটি বাতিল করবে। কিন্তু তার অবস্থান থেকে এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই দ্রুত নির্বাচন চায়, নাকি তেলচুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখতে আগ্রহী? এই প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা এখনই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন পথে?
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিপুল বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির রাজস্ব বাড়তে পারে এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে চুক্তিটি দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভবিষ্যৎ সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
চুক্তিটির সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের অবস্থান, আইনি বৈধতা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ—এই সবগুলো বিষয় কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বিত হয় তার ওপর।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তেলসম্পদ কাজে লাগানো ভেনেজুয়েলার জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কে করবে—সেটিই এখন দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুক্তিটি তাই শুধু একটি তেলবাণিজ্য নয়; বরং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাবের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি