যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনি কার্যক্রমে ব্যয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে নির্বাচনি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটস। এই পূর্বাভাস বাস্তব হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে গভর্নর পদে নির্বাচন ঘিরে বিজ্ঞাপন ব্যয়ের চিত্রও পর্যালোচনা করেছে অ্যাডইমপ্যাক্ট। এফইসির তথ্য বলছে, চলতি নির্বাচনি চক্রে ব্যয়ের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি ২০২৩-২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকেও পেছনে ফেলেছে এবারের নির্বাচনি ব্যয়।
ওয়েসলিয়ান মিডিয়া প্রজেক্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট ও গভর্নর পদে প্রার্থীদের বিজ্ঞাপন প্রচারে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১২ থেকে ২৫ অক্টোবর—এই দুই সপ্তাহে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থের এই ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচার-প্রচারণার ক্রমবর্ধমান আর্থিক ব্যাপকতার চিত্র তুলে ধরছে।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে নতুন গভর্নর নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। দেশজুড়ে ২৩ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
কয়েক মাসের প্রচার-প্রচারণা শেষে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে নির্বাচনও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবারের ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এআরবি