যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিং সফর করেছেন। এই সফরকে বিশ্লেষকেরা মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক শক্তির কূটনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।
বুধবার চীনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরাগচি তার চীনা সমকক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। এটি যুদ্ধ শুরুর পর দুই মিত্র দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের প্রথম সরাসরি বৈঠক। ইরান এই সফরকে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে, যার লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার। দেশটি ইরান থেকে বড় পরিমাণে তেল আমদানি করে এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি, বেইজিং গোপনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলেও ধারণা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আবার চীনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন, যাতে তারা ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রভাবিত করে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মন্তব্য করেছেন, চীন চাইলে কূটনৈতিকভাবে ইরানকে প্রণালি খুলতে বাধ্য করতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন যে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করার চেষ্টা করছে এবং চীনের উচিত তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে ইরানি তেল কেনা চীনের কিছু রিফাইনারিকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে। এর জবাবে বেইজিং জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য নয়।
বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, চীন ও ইরানের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে এবং বেইজিং ‘তেহরানের একজন আন্তরিক বন্ধু’ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফর, যেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, ১৪–১৫ মে নির্ধারিত রয়েছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের আগে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
এসআর