হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে বিশ্বে প্রথম বৈঠক শুরু

আমার দেশ অনলাইন

ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার কলম্বিয়ায় বিশ্বে প্রথমবারের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছে ৫০টিরও বেশি দেশ। কলম্বিয়ার সান্তা মার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মন্ত্রী ও জলবায়ু দূতরা এই সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়েছেন। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সান্তা মার্তায়, যা দেশটির ব্যস্ততম কয়লা রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি।

কলম্বিয়ার অর্থনীতি অনেকটাই জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।

দুই দিনের এই সম্মেলন জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনার বাইরে আয়োজন করা হয়েছে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানি ইস্যুতে অগ্রগতি না হওয়ায়, ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত এই জ্বালানি নিয়েই মূলত আলোচনা হবে।

যুক্তরাজ্যের বিশেষ জলবায়ু দূত র‌্যাচেল কাইট এএফপিকে বলেন, ‘এখানে এসে মনে হচ্ছে সবাই যেন নতুন করে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারছে। এটা আদৌ করা দরকার কি না-অন্তত এই প্রশ্নে আর তর্ক করতে হচ্ছে না।’

সোমবার প্রতিনিধিরা পৌঁছানোর সময় পরিবেশকর্মী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো ক্যারিবীয় উপকূলীয় এই শহরের রাস্তায় ও সৈকতে জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

সমুদ্র দিগন্তে তখনও দেখা যাচ্ছিল কয়লাবাহী জাহাজ।

এই সম্মেলন থেকে বাধ্যতামূলক কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই। তবে একটি বৈজ্ঞানিক প্যানেল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প বন্ধের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কানাডা, নরওয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় জ্বালানি উৎপাদক।

এছাড়া উন্নয়নশীল তেলসমৃদ্ধ দেশ নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও ব্রাজিলও তালিকায় রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, কয়লানির্ভর উদীয়মান অর্থনীতি তুরস্ক ও ভিয়েতনাম এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোও এতে অংশ নিচ্ছে।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না। অনুপস্থিত রয়েছে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোও।

-‘সৎ উদ্দেশ্য’-

গত বছর শেষ দিকে এই সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হওয়ায়, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

র‌্যাচেল কাইট বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি এখন স্পষ্টভাবেই অস্থিরতার উৎস হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দেশই আন্তরিকভাবে এখানে এসেছে। তারা এই জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করতে চায়, যা বর্তমান সংকটে আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।’

এই আলোচনায় এমন দেশও রয়েছে, যাদের অর্থনীতি অনেকটাই জীবাশ্ম জ্বালানির আয়ের ওপর নির্ভরশীল যেমন আয়োজক কলম্বিয়া।

এছাড়া আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে কীভাবে ন্যায্যভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার কমানো যায় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করে এমন ভর্তুকি সংস্কার করা যায়।

সোমবার আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকারগুলো এখনো নবায়নযোগ্য জ্বালানির তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করছে জীবাশ্ম জ্বালানিতে।

-‘জীবাশ্ম জ্বালানি নিষিদ্ধ’-

রোববার একটি বৈজ্ঞানিক প্যানেল ১২ দফা নীতিপ্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি অনুসন্ধান ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

ব্রাজিলের বিজ্ঞানী কার্লোস নোব্রে বলেন, ‘নতুন করে জীবাশ্ম জ্বালানি অনুসন্ধানের কোনো যুক্তি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন অনুসন্ধান বন্ধ করলেও বর্তমানে যে পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি তেল, কয়লা ও গ্যাস রয়েছেÑ তা ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়াতে পারে।’

বর্তমানে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করতে পারে।

এই সীমা পেরিয়ে গেলে, প্রবাল প্রাচীর ও গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তরসহ বহু প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আর এর প্রভাব হবে ভয়াবহ ও অপরিবর্তনীয়।

এসআর

মার্কিনবিরোধী হয়ে উঠছেন ভারতীয়রা

ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের সব সদস্যকে বরখাস্ত করল ট্রাম্প প্রশাসন

কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব, তীব্র প্রতিযোগিতায় চার প্রার্থী

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ

কলম্বিয়ার মহাসড়কে বোমা হামলায় ২১ নিহত, আহত ৫৬

ওয়াশিংটনের নৈশভোজে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে

ইরান ইস্যুতে সিনেটে ষষ্ঠ ভোটে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থবির, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত

ইরানের শান্তি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র, সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি

গণমাধ্যমের বাইরে থাকবে ইরান আলোচনা, কারণ জানাল হোয়াইট হাউস