যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। দেশটির সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়া প্রথম পোপ হলেন তিনি। জন্ম শহর শিকাগোতে ডাকযোগে নিজের ভোট দিয়েছেন পোপ। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার ভ্যাটিকান এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভ্যাটিকানের প্রেস দপ্তর জানায়, পোপ লিও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নাগরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের বিশ্বাস থেকেই তিনি ভোট দিয়েছেন। এর আগে যখনই ভোট দেওয়ার যোগ্যতা ছিল, তখনই তিনি ভোট দিয়েছেন।
ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পবিত্র পিতা বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নাগরিকদের অধিকার এবং দায়িত্ব।’ তবে পোপ কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা জানায়নি ভ্যাটিকান।
পোপের ভোট দেওয়ার বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলন ক্যাথলিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ‘রাজনীতির আগে নিজেদের বিশ্বাসকে স্থান দেন’ এবং ‘মানবিক মর্যাদা ও সামষ্টিক কল্যাণ রক্ষা করেন’।
সম্মেলনের জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক চিকো নোগুচি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের পবিত্র পিতা প্রত্যেক নাগরিককে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’
পোপ লিও শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই নাগরিক নন, তিনি পেরুরও নাগরিক। সেখানে তিনি ২০ বছরের বেশি সময় যাজক ও বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ভ্যাটিকানের নাগরিক হিসেবে তিনি দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, বিদেশে বসবাসরত নাগরিকেরা ডাকযোগে বা অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে ভোট দিতে পারেন। এমনকি বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করলেও তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার কারণে কোনো মার্কিন নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব হারান না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন নাগরিক বিদেশি রাষ্ট্রের প্রধান, সরকারপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলে তার নাগরিকত্বের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হতে পারে।
নিয়মিত ভোটার পোপ লিও
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর ডিক ডারবিনের উত্তরসূরি নির্বাচন করবেন। একই সঙ্গে তারা গভর্নর জে বি প্রিৎজকারকে পুনর্নির্বাচিত করবেন কি না, সে বিষয়েও ভোট দেবেন। শিকাগো এই অঙ্গরাজ্যেরই শহর। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যটি ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
গত ৩ অক্টোবর ডাকযোগে ভোটের জন্য আবেদন করেছিলেন পোপ লিও। এর মাত্র ১০ দিন পর তার ডান ফুসফুস থেকে ক্যানসার আক্রান্ত একটি টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়। ১৭ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে ভ্যাটিকানে তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছেন।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বোর্ডের নথি অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে রবার্ট প্রিভোস্ট নামে পোপ লিও পাঁচটি প্রাথমিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে দুবার ডেমোক্রেটিক পার্টির এবং তিনবার রিপাবলিকান পার্টির ব্যালট চেয়েছিলেন তিনি। তবে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা এসব নথিতে উল্লেখ নেই।
ইলিনয়ে প্রাথমিক নির্বাচনে ভোট দিতে হলে ভোটারদের নিজেদের দলীয় পছন্দ জানাতে হয়। শিকাগোর অন্তর্ভুক্ত ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি কুক কাউন্টিতে নিবন্ধিত থাকার সময় ২০০৮ ও ২০১০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনের ব্যালট চেয়েছিলেন প্রিভোস্ট। পরে তুলনামূলক রক্ষণশীল উইল কাউন্টিতে চলে যাওয়ার পর ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে রিপাবলিকান পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনের ব্যালট চেয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ
২০২৫ সালের মে মাসে পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকবার মতবিরোধে জড়িয়েছেন পোপ লিও।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের বারবার সমালোচনা এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের বিরোধিতা করায় পোপের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প পোপ লিওকে ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তাকে ‘উগ্র বামপন্থিদের’ দ্বারা প্রভাবিত বলে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়।
জবাবে সাংবাদিকদের পোপ লিও বলেন, ‘আমি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পাই না। গির্জা যে সুসমাচারের বাণী প্রচার করে, তা নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলতেও আমি ভয় পাই না।
এএম