যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি ও বিভিন্ন মালামাল জব্দের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এ অভিযানকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিশোধমূলক’ বলে অভিহিত করে জব্দ করা পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য সামগ্রী অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) তদন্ত করে দেখছে, ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে ইলহান ওমর নিজের বয়স সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না। এ তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার ওয়াশিংটনের বাসায় কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এ সময় তারা বেশ কিছু নথিপত্র, মুঠোফোন, নোটবুক, ল্যাপটপ ও পাসপোর্ট জব্দ করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল কৌঁসুলিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তল্লাশির আইনি ভিত্তি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ইলহান ওমরের আইনজীবীরা। চিঠিতে তারা বলেছেন, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব নিয়ে আইন লঙ্ঘনের কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।
আইনজীবীদের অভিযোগ, নির্বাচনের ৬০ দিনের মধ্যে এ ধরনের তল্লাশি না চালানোর দীর্ঘদিনের রেওয়াজ উপেক্ষা করে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া তল্লাশির সময় ইলহান ওমরকে পরোয়ানার কোনো অনুলিপি দেখতে দেওয়া হয়নি এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা আরো দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম শীর্ষ কংগ্রেসীয় সমালোচক ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ তার সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ক্ষমতার ভারসাম্যও ক্ষুণ্ন করে।
তবে অভিযানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। তার দাবি, এটি কেবল দেশের আইন প্রয়োগের অংশ এবং এ পদক্ষেপের পেছনে জোরালো তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।
নাগরিকত্বসংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি ইলহান ওমরের আর্থিক বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে, আর্থিক বিবরণীতে তার স্বামীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্য সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
তবে নাগরিকত্ব ও আর্থিক অনিয়মের সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইলহান ওমর। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।
সূত্র: ফক্স নিউজ
এআরবি