ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানের মাসকাটে পরমাণু আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে বৈঠকের আগমুহূর্তেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘তার এখন খুবই চিন্তিত হওয়া উচিত।’
ওয়াশিংটন থেকে জানা গেছে, বুধবার দুই পক্ষ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে আলোচনার স্থান ও বিষয়বস্তু নিয়ে মতভেদের কারণে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার গুঞ্জনও ছিল।
ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি। তেহরানের কঠোর দমননীতির কারণে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, শুক্রবার মাসকাটে পরমাণু আলোচনার সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে এবং তিনি ওমান সরকারের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসও বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তুরস্কে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও ইরানের অনমনীয়তা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করার অস্বীকৃতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র একপর্যায়ে আলোচনার ঝুঁকি পুনর্বিবেচনা করেছিল।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র তা জানে। তিনি বলেন, ‘যদি তারা এমন কিছু করে, তবে তাদের জন্য খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।’ ইতোমধ্যে মার্কিন নৌবহর ‘আর্মাডা’ অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে, যেটির একটি যুদ্ধবিমান ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানও প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আলোচনা অর্থবহ হতে হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদত দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার বিষয়গুলো অবশ্যই আলোচনায় থাকতে হবে। তবে ইরান বরাবরই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকে এবং দাবি করে, এগুলো আত্মরক্ষার জন্য।
সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, ইসরাইলি হামলা এবং আঞ্চলিক মিত্র হারানো ইরানকে বেশ চাপে ফেলেছে। তার পরও মাসকাটে বৈঠক দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসআর