হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

কানাডা থেকে আলাদা হতে ১৯ অক্টোবর আলবার্টায় গণভোট

আমার দেশ অনলাইন

প্রিমিয়ার দানিয়েল স্মিথ। ছবি: বিবিসি

কানাডার অংশ হিসেবে থাকবে নাকি বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে দ্বিতীয় একটি চূড়ান্ত ভোটের দিকে এগিয়ে যাবে-তা নির্ধারণ করতে একটি গণভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে আলবার্টা প্রদেশ। এর মাধ্যমে গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির জাতীয় ঐক্য প্রথম কোনো বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার আলবার্টার প্রিমিয়ার দানিয়েল স্মিথ এই ঘোষণা দেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিচ্ছিন্নতার পক্ষে একটি নাগরিক আবেদনে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন এবং কানাডায় থাকার পক্ষে পৃথক আরেকটি আবেদনে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করার পর এই ঘোষণা এলো।

তেলসমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীনতা আন্দোলন দানা বাঁধছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের এক ক্ষোভ, অটোয়ার নীতিনির্ধারকরা আলবার্লাকে সবসময় উপেক্ষা করে আসছেন।

তবে জনমত জরিপগুলো বলছে, আলবার্টার অধিকাংশ মানুষ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপক্ষেই ভোট দেবেন।

প্রিমিয়ার জানান, আগামী ১৯ অক্টোবর এই প্রাদেশিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে স্মিথ বলেন,‘আগামী শরতে আলবার্টাবাসীর সামনে যে প্রশ্নটি রাখা হবে তা হলো- ‘আলবার্টা কি কানাডার একটি প্রদেশ হিসেবে থাকবে, নাকি আলবার্টা সরকারের উচিত হবে কানাডিয়ান সংবিধানের অধীনে একটি বাধ্যতামূলক প্রাদেশিক গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা, যাতে আলবার্টা আলাদা হবে কি-না তা নির্ধারণ করা যায়?’

প্রিমিয়ার জানান, তিনি নিজে আলবার্টার কানাডায় থাকার পক্ষেই ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাদেশিক গণভোটে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে আমি এভাবেই ভোট দেব এবং এটি আমার সরকার ও দলেরও অবস্থান।’

তবে একটি আদালতের রায়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন, যেখানে আলবার্টার একজন বিচারক বিচ্ছিন্নতার পক্ষে আনা আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদিবাসী ফার্স্ট নেশনস গ্রুপগুলোর যুক্তি ছিল, এই বিষয়ে তাদের সাথে সঠিকভাবে পরামর্শ করা হয়নি, যা তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। আদালতের ওই আদেশের কারণে গণভোটের আবেদনটির স্বাক্ষর যাচাইকরণ স্থগিত হয়ে যায় এবং বিষয়টি ঝুলে পড়ে।

এর জবাবে স্মিথ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘প্রিমিয়ার হিসেবে একজন বিচারকের আইনি ভুলের কারণে আমি লাখ লাখ আলবার্টাবাসীর কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হতে দেব না। আলবার্টার ভবিষ্যৎ আলবার্টাবাসী নির্ধারণ করবে, আদালত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া কেবল একটি আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ককে দীর্ঘায়িত করবে। আর লাখ লাখ আলবার্টাবাসী যারা তাদের কথা বলতে চান, তাদের মুখ বন্ধ করা একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে সমর্থনযোগ্য নয়।’

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছ থেকে ব্যালটে এই প্রশ্নটি যুক্ত করার জন্য গত কয়েক মাস ধরে চাপের মুখে ছিলেন স্মিথ। বিচ্ছিন্নতার পক্ষে কাজ করা আইনজীবী জেফরি রথ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘স্মিথ এই গণভোটের প্রশ্নটি দিয়ে চালবাজি করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রিমিয়ার তার মূল সমর্থন হারিয়েছেন।’

কানাডার ঐক্য আগেও সংকটের মুখে পড়েছিল। কুইবেক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দুবার ভোট দিয়েছিল, যার শেষটি ছিল ১৯৯৫ সালে। ওইবার মাত্র ৫০.৫৮ শতাংশ বনাম ৪৯.২২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে স্বাধীনতার বিপক্ষে রায় এসেছিল।

ওইসব লড়াইয়ের পর দেশটিতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নিয়মকানুন ঠিক করা হয়েছিল। আগামী অক্টোবরে আলবার্টার ‘আলাদা হওয়ার’ পক্ষ জয়ী হলেও সামনে একটি দীর্ঘ ও অনিশ্চিত পথ রয়েছে।

চলতি মে মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, প্রদেশের বিচ্ছিন্ন হওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অবশ্যই 'ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট'-এর নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে। ১৯৯৫ সালের কুইবেক গণভোটের পর এই ২৬ বছরের পুরোনো আইনটি করা হয়েছিল।

আইন অনুযায়ী, আলবার্টার সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাধ্যতামূলক স্বাধীনতা গণভোটের জন্য কিছু মৌলিক নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে-ভোটারদের ‘স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ থাকতে হবে এবং গণভোটের প্রশ্নের ভাষা স্পষ্ট হতে হবে, যা ফেডারেল হাউস অব কমন্স দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই শর্তগুলো পূরণ হলে বিচ্ছেদের শর্তাবলী নিয়ে আলবার্তাকে ফেডারেল সরকারের সাথে একটি কঠিন এবং সম্ভবত দীর্ঘস্থায়ী আলোচনায় বসতে হবে।

৪০ লাখ মানুষের এই পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে অটোয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের, বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়ন নিয়ে। কিছু আলবার্টাবাসী বিশ্বাস করেন, জলবায়ু-বান্ধব আইনের পক্ষে গিয়ে ফেডারেল সরকার প্রদেশের তেল ও গ্যাস শিল্পের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া এই অঞ্চলে বিশাল সম্পদ থাকায় তারা মনে করে, দেশটি থেকে তারা যা পায়, তার চেয়ে বেশি অবদান তারা দেশকে দেয়।

পূর্বে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে থাকলেও, গত এক বছরে ঐক্য সংকটের এই সম্ভাবনা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের একক কোনো দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলেও, বেশিরভাগই অন্তত প্রদেশের সম্পদ এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ওপর আরো বেশি স্বায়ত্তশাসন চায়।

স্মিথ বৃহস্পতিবার এই উদ্বেগগুলোর কিছু অংশ স্বীকার করে যুক্তি দেন, ফেডারেল সরকার আরো বেশি কেন্দ্রীভূত আমেরিকান-শৈলীর ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রাদেশিক এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমি অটোয়ার এই প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং সমস্ত প্রাদেশিক নেতা ও এমপিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে অটোয়ায় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ আমাদের দেশের অর্থনীতি এবং জাতীয় ঐক্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করেছে, তা তারা নস্যাৎ করেন।’

প্রধানমন্ত্রী কার্নি অবশ্য স্মিথের কিছু উদ্বেগ দূর করতে কাজ করেছেন, যার মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পাইপলাইন নির্মাণের পদক্ষেপও রয়েছে। এই মাসের শুরুর দিকে দুই নেতা একটি জলবায়ু ও জ্বালানি চুক্তি ঘোষণা করেন, যার ফলে আগামী বছরের শুরুতেই একটি তেল পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ শুরু হতে পারে।

কানাডার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘লিবারেল সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে আলবার্টাবাসী এবং সমস্ত কানাডিয়ানদের স্বার্থ তখনই সবচেয়ে ভালো রক্ষিত হয়, যখন আমরা একসাথে কাজ করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রিমিয়ার স্মিথের বক্তব্যটি লক্ষ্য করেছি। আলবার্টার সাথে পূর্ণ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং সমস্ত আলবার্টাবাসী ও কানাডিয়ানদের স্বার্থে একটি শক্তিশালী কানাডা গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

ফেডারেল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পইলিভ্রে, যিনি নিজেও আলবার্টার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘একটি ঐক্যবদ্ধ দেশের পক্ষে এবং আমরা আশা ও বিশ্বাসের চারপাশ দিয়ে এই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রতিদিন ও সব উপায়ে প্রচারণা চালিয়ে যাব।’

সূত্র: বিবিসি

এএম

ইরান যুদ্ধের খরচ ২৫ গুণ উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা তেল থেকেই : ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধানের পদত্যাগ

ইরান যুদ্ধে আত্মসমর্পণই ট্রাম্পের শেষ পরিণতি

হরমুজ চালুতে ‘প্ল্যান বি’র কথা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি বললেন রুবিও

নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও ফ্রান্সেসকা আলবানিজের বিষয়ে অবস্থান বদলায়নি যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ রিপার ড্রোন ধ্বংস

ইরান যুদ্ধের বিরোধিতায় মার্কিনিদের বড় অংশ, কমছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য চরমে