ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এর প্রভাব পড়েছে প্রমোদ তরীর ওপরও। বিশ্বভ্রমণে থাকা আমেরিকার বিলাসবহুল প্রমোদ তরী ২০০-এরও বেশি যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে কম্বোডিয়া সাগরে। যাদের বেশিরভাগই আমেরিকান।
‘ভিলা ভি রেসিডেন্সেস’ নামে ফ্লোরিডাভিত্তিক এমভি ওডিসি জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রায় দুবছর ধরে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রযাত্রা করছে তারা। কিন্তু সম্প্রতি যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম চারগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে মঙ্গলবার তারা এর কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
জাহাজে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রায় ২০০ মিটার বা ৬৫৬ ফুট দীর্ঘ এ জাহাজটি ৬৫০ জন পর্যন্ত যাত্রী বহন করতে পারে। এটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘বিশ্বজুড়ে এক অবিরাম সমুদ্রযাত্রার’ উদ্দেশে বেলফাস্ট থেকে যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল পিটারসন বুধবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জানান, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরুর আগে তারা প্রতি টন জ্বালানির জন্য গড়ে ৭০০ ডলার ব্যয় করতেন। কিন্তু যুদ্ধের পর থেকে তাদের প্রতি টন জ্বালানির পেছনে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। এমভি ওডিসি জাহাজটিতে প্রতি মাসে ৭০০ থেকে ৮০০ টন জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
পিটারসন বলেন, জাহাজে থাকা ৩০০ যাত্রীর মধ্যে এই খরচ ভাগ করে দিলে তা যাত্রীদের জন্য ব্যয়বহুল হবে। গত ৯ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে।
এক বিবৃতিতে ‘ভিলা ভি রেসিডেন্সেস’ জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে প্রতি কেবিনের ভাড়া ১,৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ছয় হাজার থেকে আট হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির এই বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপাতে চায়নি জাহাজ কোম্পানি। এ অবস্থায় যাত্রীদের কম্বোডিয়ার বন্দরনগরী সিহানুকভিলে নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে তারা।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘এমভি ওডিসি’ বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ভ্রমণকারীরা কয়েক লাখ ডলার দিয়ে কেবিন কিনে জাহাজটিতে ভ্রমণের সুযোগ পান। অনেকে এ সুযোগ নিতে নিজেদের বাড়িঘরও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। সে সময় তাদের অন্তত ১৫ বছর জাহাজটিতে বসবাসের নিশ্চয়তা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
একসময়কার এই শান্ত সমুদ্র তীরবর্তী শহরটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রতারণার কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিশ্বজুড়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছে। সব শেষ মঙ্গলবার যাত্রা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার আগে জাহাজটি তার বিশ্ব পরিভ্রমণের ৭৫০ দিনেরও বেশি সময় পার করেছিল। এর অর্থ হলো, এর যাত্রীরা এখন কম্বোডিয়ায় আটকা পড়বেন।